শেষটা রাঙালেন তাসকিন-মুস্তাফিজরা
বিদায় নিশ্চিত ছিল আগেই। ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু বিদায়ী ম্যাচেই জ্বলে উঠল রংপুর রেঞ্জার্স। তাসকিন-আরাফাতদের দুর্দান্ত দিনে শক্তিশালী ঢাকাকে ১১ রানে হারাল শেন ওয়াটসনের দল।
এই জয়ের মাধ্যমে শেষ হল রংপুর রেঞ্জার্সের বিপিএল যাত্রা। টুর্নামেন্টে মোট ১২ ম্যাচ খেলে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে রংপুর। পাঁচ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয় নম্বরে থেকে বিদায় নিল রেঞ্জার্সরা। অন্যদিকে আগের ম্যাচে রংপুরকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে ঢাকা। ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে মাশরাফিদের অবস্থান টেবিলের দ্বিতীয়তে।
আজ শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে নয় উইকেটে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে রংপুর রেঞ্জার্স। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৩৮ রানে থেমে যায় ঢাকা প্লাটুন।
এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন রংপুর অধিনায়ক শেন ওয়াটসন। মেহেদী হাসানের সেই ওভারের শেষ বলেও হাঁকান বাউন্ডারি। কিন্তু ঝড় তোলার আভাস দিয়েও সেটা ধরে রাখতে পারলেন না ওয়াটসন। দ্বিতীয় ওভারে এসে রংপুর অধিনায়ককে সাজঘরে পাঠান ঢাকার অধিনায়ক মাশরাফি। আট বলে ১০ রানে শেষ হয় ওয়াটসনের ইনিংস। রংপুরের হয়ে খেলা ওয়াটসন শুধু এক ম্যাচেই ৬৮ রান করেছিলেন। বাকি ছয় ম্যাচ মিলে তাঁর মোট রান ২৫।
ওয়াটসনের পর শেষ ম্যাচ রাঙাতে পারলেন না ক্যামেরন ডেলপোর্টও। পঞ্চম ওভারে ডেলপোর্টকে শিকার বানান মেহেদী হাসান। পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দে থাকা নাঈমের ইনিংসটাও আজ বড় হল না। শাদাব খানের বলে তিনি ফিরে যান ২১ রানে।
তিন টপ অর্ডারকে হারানোর পর রংপুরের হাল ধরেন গ্রেগোরি। আল-আমিনকে নিয়ে মাত্র ২৭ বলে গড়েন ৪৯ রানের জুটি। ১৪তম ওভারে এই জুটিকে থামান থিসারা পেরেরা। ৩২ বল খেলে ৪৬ রানে সাজঘরে ফেরেন গ্রেগোরি।
এরপর শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে দলকে টানেন আল-আমিন। দলের রান আরো বাড়তে পারত। কিন্তু শেষের দিকে থিসারা পেরেরার বোলিং তোপে হয়নি। শেষ ওভারে দুইজনকে আউট করার পাশাপাশি দুইজনকে রান আউট করেন তিনি। তাতে নির্ধারিত ওভারে ১৪৯ রানে থামে রংপুর রেঞ্জার্স। গ্রেগোরির পর ব্যাট হাতে ২৪ বলে ৩৫ করেন আল আমিন, ২৪ বলে ২৮ রান করেন জহুরুল।
জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকারও। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন এনামুল হক। ধীর গতিতে খেলা মেহেদী ফেরেন অষ্টম ওভারে। ফেরার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ২০ রান।
মাঝে দলকে টানেন তামিম ইকবাল। ১২তম ওভারে তামিমকে সাজঘরে পাঠান আরাফাত সানি। ফেরার আগে দুই বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ৩৩ বলে ৩৪ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার। পরের ওভারে মুমিনুল ফেরেন তাসকিনের বলে। এরপর শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে চড়ে বেশিদূর যেতে পারল না ঢাকা। নির্ধারিত ওভারে ১৩৮ রানে থেমে যায় মাশরাফির দল।
ছন্দের খোঁজে থাকা তাসকিন ২৫ রানের বিপরীতে দুই উইকেট নেন। চার ওভারে ২৯ রান দিয়ে সমান দুটি উইকেট নেন আরাফাত সানি। মুস্তাফিজ নেন এক উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর রেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ১৪৮/৯ (ওয়াটসন ১০, নাঈম ১৭, ডেলপোর্ট ৬, গ্রেগোরি ৪৬, আল আমিন ৩৫, জহুরুল ২৮, নাদিফ ২*, তাসকিন ০, মুস্তাফিজ ০, সানি ০; মেহেদী ৪-০-২৯-১, মাশরাফি ৪-০-১৭-১, ফাহিম ৩-০-৩২-০, শাদাব ৪-০-২৫-২, হাসান ২-০-২২-০, থিসারা ৩-০-২২-৩)।
ঢাকা প্লাটুন : ২০ ওয়াভে ১৩৯/৯ ( তামিম ৩৪, এনামুল ৫, মেহেদী ২০ , মুমিনুল ১৮, পেরেরা ৮, শাদাব , আসিফ ১, ফাহিম ৩, মাশরাফি ১২, হাসান ০; আফারাত ৪- ০-২৯-২, জুনায়েদ ৪-২২-০-২, তাসকিন ৪-০-২৫-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩১-১, গ্রেগোরি ৪-০-২৫-১ )।
ফল : ১১ রানে জয়ী রংপুর রেঞ্জার্স।

ক্রীড়া প্রতিবেদক