ভারতের ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের বোলিং
প্রায় তিন সপ্তাহ শেষে পর্দা নামছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এবারের আসরের। রোববার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টে চমক-জাগানিয়া পাকিস্তান। অল এশিয়ান ফাইনালের শিরোপা যেই জিতকু না কেন, লড়াইটা যে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের সঙ্গে পাকিস্তানের পেস অ্যাটাকের হবে, সেটা হয়তো না বললেও চলে। পরিসংখ্যানই বলছে এমন কথা।
এবারের আসরে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে ভারতের ব্যাটসম্যানরা। শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি—এ তিনজন মিলে সংগ্রহ করেছেন ৮৭৪ রান, যা পাকিস্তানের পুরো টুর্নামেন্টে মোট রানের চেয়েও বেশি। এবারের আসরে চার ম্যাচে পাকিস্তান মোট সংগ্রহ করেছে ৭৩৫ রান, যা ধাওয়ান-কোহলি-রোহিতের চেয়ে ১৩৯ রান কম! টুর্নামেন্টে ভারত সংগ্রহ করেছে ১,০৯৮ রান, যার সিংহভাগই এসেছে এই তিনজনের ব্যাট থেকে।
টুর্নামেন্টে মোট ৩১টি উইকেট শিকার করেছে পাকিস্তানি বোলাররা, যার মধ্যে ১৭টি উইকেটই নিয়েছেন হাসান আলি ও জুনায়েদ খান। এত উইকেট নিতে পারেনি আর কোনো দেশের বোলাররা। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বেধড়ক মার খাওয়ার পর বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানের বোলাররা। শেষ তিন ম্যাচে পাকিস্তানের বোলিং গড় ২৩.৭৮! এই তিন ম্যাচে মাত্র ৪.৪৬ গড়ে ২৮ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানের বোলাররা, যেখানে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে অলআউট করে দেয় পাক পেসাররা।
পাকিস্তানের বোলাররা যতই ভালো করুক না কেন, আজ পরিসংখ্যান কিন্তু ভারতের পক্ষেই কথা বলছে। আইসিসির ইভেন্টে সর্বশেষ ১৫ সাক্ষাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ বারই জিতেছে ভারত। দলটির বিপক্ষে ভারতের শেষ দুটি হার অবশ্য এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেই এসেছে। পাকদের বিপক্ষে আইসিসির ওয়ানডে টুর্নামেন্টে সর্বশেষ ১০ মোকাবিলায় ভারত জিতেছে আটবার। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর ভারতের বিপক্ষে আর জয়ের মুখ দেখেনি পাকিস্তান। তবে মোট জয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু পাকিস্তানের পাল্লাটা অনেক ভারি। ভারতের বিপক্ষে ১২৮ ম্যাচে মাঠে নেমে ৭২ বারই জিতেছে পাকিস্তান। আর ভারত জিতেছে ৫২ বার।
আইসিসির টুর্নামেন্টের ফাইনালেও পরিষ্কারভাবে এগিয়ে আছে ভারত। ১৯৮৫ সালে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের পর ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও পাকিস্তানকে হারায় ভারত। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারতের জয়ের রেকর্ডটা কিন্তু দারুণ। ২০০০ সালে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর ফাইনালে এখন পর্যন্ত অপরাজিত ভারত।

স্পোর্টস ডেস্ক