বাংলাদেশের পর আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড
২০০০ সালে ক্রিকেট বিশ্বের সর্বশেষ দল হিসেবে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রায় দেড় যুগ পর এবার আরো দুটি দেশ হয়ে গেল ক্রিকেটের অভিজাত সদস্য। আজ বৃহস্পতিবার লন্ডনে আইসিসির এক সভায় টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে। ফলে এখন টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া দেশের সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ১২টিতে।
সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে নজর কেড়েছে আফগানিস্তান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ক্রিকেট বিশ্বে ক্রমাগত চমক দেখিয়ে চলেছে এশিয়ার এই দেশটি। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডও নিজেদের টেস্ট স্ট্যাটাসের যোগ্য বলে দাবি করে আসছে অনেক দিন ধরেই। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর ধারাবাহিকতা বিচার করে দুই দেশকেই টেস্ট স্ট্যাটাস দিয়েছে আইসিসি।
ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো উপমহাদেশের দেশগুলোর ক্রিকেট হাতেখড়ি হয়েছে ব্রিটিশ উপনিবেশের মাধ্যমে। আফগানিস্তান এই জায়গায় ব্যতিক্রম। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে অনেকেই যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন পাকিস্তানে। সেখান থেকেই শুরু হয়েছে দেশটির ক্রিকেটযাত্রা। এরপর বেশ কিছু দিন দেশটিতে ক্রিকেট নিষিদ্ধ করে রেখেছিল তালেবানরা। ২০০০ সালের পর থেকে হঠাৎ করেই ক্রিকেট জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে আফগানিস্তানে। আর অল্প সময়ের মধ্যেই তারা হয়ে উঠেছে ক্রিকেটের উদীয়মান শক্তি। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা হারিয়ে দিয়েছিল শিরোপাজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী, আসগর স্তানিকজাইরা এখন পাল্লা দিয়েই লড়েন বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের বিপক্ষে।
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট খেলছে প্রায় শুরু থেকেই। ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আইরিশ ক্রিকেট ইউনিয়ন। তারও ২৫ বছর আগে দেশটিতে গড়ে উঠেছিল একটি ক্রিকেট ক্লাব- ফনিক্স ক্রিকেট ক্লাব। ১৯৬৯ সালে আয়ারল্যান্ড হারিয়ে দিয়েছিল সে সময়ের সর্বজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
তবে পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের মতো এগিয়ে যেতে পারেনি আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট। টেস্ট স্ট্যাটাস না পাওয়ায় বড় দলগুলোর বিপক্ষে সেভাবে খেলার সুযোগও পাননি আইরিশ ক্রিকেটাররা। ২০০৭ ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপে অবশ্য পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বেশ চমক জাগিয়েছিল আয়ারল্যান্ড।

স্পোর্টস ডেস্ক