‘যুদ্ধ’ শেষে শান্তির ডাক অস্ট্রেলিয়ায়
যুদ্ধ আপাতত শেষ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও দেশটির ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন—দুই পক্ষই নিজেদের জয়ী ভাবছে। এটাও সত্য যে, এই যুদ্ধে হেরেছেও দুটি পক্ষ। কারণ, তাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির ক্রিকেট। এ ছাড়া নিজেদের ভাবমূর্তিও নষ্ট করেছে বিবদমান দুটি পক্ষ। তবে এখন আর অতীত নিয়ে ভাবতে চায় না কেউই। গত কয়েক মাসে দেশটির ক্রিকেটের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা মেটাতে বদ্ধপরিকর বোর্ড ও ক্রিকেটাররা। সেই সঙ্গে দুটি পক্ষের পুরোনো সম্পর্কটাও ফেরাতে চায় তারা। যুদ্ধ শেষে এখন শান্তি চাইছে দুটি পক্ষই। সে কারণে একে অপরের প্রতি আবার শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানালেন দেশটির বোর্ডপ্রধান জেমস সাদারল্যান্ড ও সাবেক ক্রিকেটাররা।
পারিশ্রমিক-সংক্রান্ত বিবাদ মিটে যাওয়ার পর জেমস সাদারল্যান্ড বলেন, ‘আমরা এবার ক্রিকেটে ফিরে যেতে চাই। আমার মনে হয়, গত কয়েক দিনে যেটা হয়েছে, সেটা যথেষ্টর চেয়ে বেশি ছিল। তবে ঝামেলা মিটে যাওয়ায় আবার ক্রিকেটে মনোযোগী হতে হবে।’ অসি বোর্ডপ্রধান মনে করেন, ক্রিকেটার ও বোর্ডের মধ্যকার সম্পর্কটা হুমকির মুখে পড়েছিল। সমর্থকরাও চিন্তিত ছিলেন। আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করার তাগিদ দিলেন তিনি। সাদারল্যান্ড বলেন, দুটি পক্ষেরই প্রাপ্তি ও অনুতাপ রয়েছে। এখন সম্পর্কটা বিনির্মাণ করতে হবে।’
অন্যদের মতো সাদারল্যান্ডও মনে করেন, চুক্তিটা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে পাঁচ বছরের একটা চুক্তি করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যেখানে ক্রিকেটাররা বোর্ডের লভ্যাংশের ৩০ ভাগ পাবেন। এতে করে আগামী পাঁচ বছরে ৫৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাবেন ক্রিকেটাররা। সাদারল্যান্ড বলেন, ‘যদিও চুক্তিটা জটিল, তবে সেটা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে মাইকেল ক্লার্ক, মিচেল জনসনের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা মনে করেন, পারিশ্রমিক-সংক্রান্ত বিবাদ শেষে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে পুরোনো বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্কটা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তিনি বলেন, ‘একে অপরের প্রতি আরো বেশি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে আমাদের। ছেলেরা অনেক ভালো কাজ করেছে। এটা সবার পরিশ্রমের ফসল। এখন ক্রিকেটে ফেরা দরকার। যেহেতু আমাদের প্রধান কাজটিই হলো খেলা।’
আগামী ১০ আগস্ট থেকে ডারউইনে প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হবে। এক সপ্তাহের এই ক্যাম্প শেষে ১৮ আগস্ট বাংলাদেশে আসবে স্টিভেন স্মিথের দল। ২২ ও ২৩ আগস্ট ফতুল্লায় অনুষ্ঠিত হবে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ। সিরিজের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে, ২৭ থেকে ৩১ আগস্ট। আর ৪ সেপ্টেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।
গত এপ্রিলে ক্রিকেটারদের প্রায় ৩৫ শতাংশ বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। তবে বোর্ডের সেই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন দেশটির ক্রিকেটাররা। ইংল্যান্ড-ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা তাদের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছে অভিযোগ করে আরো বেশি পারিশ্রমিকের দাবি জানায় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসেসিয়েশন। তবে ক্রিকেটারদের দাবি মানতে একেবারেই নারাজ ছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বোর্ডের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হন দুইশর বেশি ক্রিকেটার। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ‘এ’ দলের সফরও বয়কট করেন ক্রিকেটাররা। চুক্তিটা না হলে বাংলাদেশ, ভারতসহ অ্যাশেজ সিরিজও বয়কটের হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন তাঁরা। তবে স্বস্তির বিষয়, আবার মাঠে ফিরল দেশটির ক্রিকেট। সময়মতোই হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর।

স্পোর্টস ডেস্ক