ওয়ানডেতেও হোয়াইটওয়াশের লজ্জা
লক্ষ্য ৩৭০ রান। জিততে হলে অসম্ভবকে সম্ভব করতে হবে। তবে অতটা কষ্ট হয়তো করতে চান না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ৩৬৯ রানের জবাবে ১৬৯ রানেই অলআউট হয় সফরকারীরা। ২০০ রানে ম্যাচটা হেরে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পেল বাংলাদেশ। এর আগে টেস্ট সিরিজেও ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল লাল-সবুজের দল।
ইস্ট লন্ডনে প্রথমে ব্যাটিং করে ৩৬৯ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে সাকিব আল হাসানের হাফ সেঞ্চুরি সত্বেও ১৬৯ রানর বেশি করতে পারেনি মাশরাফির দল।
আজ বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। প্যাটারসনের বলে সাজঘরে ফিরে যান ইমরুল কায়েস। এরপর চতুর্থ ওভারে প্যাটারসনই লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন লিটন দাসকে। টাইগারদের স্কোর তখন ১৫ রান। এরপর দলীয় ২০ রানে টাইগারদের বিপদ বাড়িয়ে ফিরে যান সৌম্য সরকার। রাবাদার বলে স্লিপে ক্যাচ নেন মার্করাম। এর পর সাজ ঘরে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহও।
আগের দুই ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করা মুশফিক আউট হন ৮ রান করে। আগের দুটি ম্যাচের মতো আজো বাজে ব্যাটিং করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলের যখন তাঁকে খুব বেশি প্রয়োজন ঠিক সেই সময় মুল্ডারের বলে লেগ বিফোর হন তিনি। পাঁচ উইকেট পরার পর অবশ্য সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমান ইনিংসটাকে মেরামতের বেশ চেষ্টা করেন। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৬৭ রান যোগ করেন তাঁরা। হাফ সেঞ্চুরির পর বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন সাকিব। সেটার খেসারতও দেন তিনি। ৬৩ রান করার পর মার্করামের বলে ডুমিনিকে ক্যাচ দিয়ে বসেন এই অলরাউন্ডার।
সাব্বিরও বেশিক্ষণ টিকেননি। ৩৯ রান কবরে মার্করামের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। এরপর অধিনায়ক মাশরাফি, তাসকিন ও মিরাজরা মিলেও পরাজয়ের ব্যবধানটা খুব বেশি কমাতে পারেননি।
টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে আগের দুটি ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও শুরুটা ভালো করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। উদ্বোধনী জুটিতে ১১৯ রান তুলে নেন কুইন্টন ডি কক ও টিম্বা বাভুমা। জোড়া আঘাত করে টাইগারদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৪৭ বলে ৪৮ রান করেন বাভুমা। ৬৮ বলে ৭৩ রান করেন ডি কক। এরপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৫১ রান যোগ করেন অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি ও এইডেন মার্করাম। ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন দু প্লেসি। ৬৭ বলে ৯১ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন প্রোটিয়া দলনেতা।
খানিকবাদে দারুণ এক থ্রোয়ে মার্করামকে ফেরান ইমরুল কায়েস। ৬৬ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত ফারহান বেহারডিন ও কাগিসো রাবাদার দারুণ কিছু শটে ৩৬৯ রানের বিশাল স্কোর সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

স্পোর্টস ডেস্ক