‘মানকাড’ বিতর্ক নিয়ে এমসিসির ব্যাখ্যা
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী ‘মানকাড’ নিঃসন্দেহে বৈধ। কিন্তু এ যাবত কালে মানকাড আউট নিয়ে যত বিতর্ক হয়েছে তা হলো ক্রিকেটের চেতনার সঙ্গে এটি যায় কি না?
সোমবার আইপিএলের চতুর্থ ম্যাচে তেমনই বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন কিংস ইলিভেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক রবিচন্দ্র অশ্বিন। সেদিনের মানকাড হওয়া বাটলারের আউট নিয়ে প্রশ্ন নেই। বরং প্রশ্ন তৈরি করে অশ্বিনের বোলিং করার ভঙ্গি। অশ্বিন যখন বল করার ভঙ্গি করেন তখনো ক্রিজে ছিলেন বাটলার। তাঁর নজরে ছিল বোলারের ফলোথ্রু।
কিন্তু হঠাৎ বল ছোড়ার সময় নিজের গতি পাল্টে স্টাম্প ভাঙেন অশ্বিন। ফলে মানকাড আউটের শিকার হন রাজস্থানকে জয়ের স্বপ্ন দেখানো বাটলার।
এ ঘটনার পর নানা ভাবে বিতর্কের মুখে পড়েন পাঞ্জাব তারকা অশ্বিন। কেউ পক্ষে কিংবা কেউ বিপক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন। মুখ খুলেছে ভারতীয় বোর্ডও। কিন্তু নন-স্ট্রাইকারকে সতর্ক করে এই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে ক্রিকেটের আইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ম্যারিলিবন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। যদিও তাতে আউটের সঠিক সমাধান মেলেনি।
এমসিসির ৪১.১৬ ধারা অনুযায়ী, বল ছোড়ার বোলার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নন-স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যানকে অবশ্যই তাঁর ক্রিজে থাকতে হবে। এই ধারা অনুযায়ী এমসিসির দাবি বাটলারকে আউট বা নট আউট দুটোই দেওয়ার নিয়ম ছিল। বোলার বল ছাড়ার আগেই যদি ব্যাটসম্যান ক্রিজের বাইরে চলে যান সে সময় তাঁকে রান আউট করতে পারবে বোলার। কিন্তু রান আউটের পর যদি ব্যাটসম্যান আউট হন তাহলে সেটা বল হিসেবে গণনা করা হবে। আর যদি ব্যাটসম্যান নট আউট থাকেন তাহলে আম্পায়ার বলটিকে ডেড বল ঘোষণা করবেন।
তবে বল ছোড়ার আগে দাগ থেকে বের হয়ে নন-স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যানদের সুবিধা নেওয়াকে ক্রিকেট চেতনার বিরোধী বলে উল্লেখ করেছে এমসিসি। তাদের ব্যাখ্যা, মানকাড আইন খুব প্রয়োজন। কারণ এটা না হলে, নন-স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান বেশ সুবিধা পেয়ে যাবে। দাগ থেকে বের হয়ে সুযোগ নেওয়া অবশ্যই হবে। এই আইনে কখনো বলা হয়নি, বল করার আগে নন-স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যানকে বল ছোড়ার আগে সতর্ক করতে হবে। বরং দাগ থেকে বের হয়ে সুবিধা নিতে চাওয়াটা ক্রিকেট চেতনার বিরোধী।
ক্রিকেটের আইনের ৪১.১৬ ধারা বিশ্লেষণ করে এমসিসি বলছে, সেদিনের ঘটনায় আউট ছিল কি না, সেটা অশ্বিনের ভঙ্গি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন আম্পায়াররা।
তাদের মতামত, অনেকের মতে বল ছোড়ার গতি পরিবর্তন করেছেন অশ্বিন। যদি ইচ্ছে করে অশ্বিন তার গতি পরিবর্তন করে তাহলে এটা অবশ্যই অবৈধ। তা ছাড়া এটি ক্রিকেট চেতনার সঙ্গে যায় না। টিভি আম্পায়ারদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হতো আইন অনুযায়ী এটা গ্রহণযোগ্য আউট কি না। এসব ঘটনার জন্য নন-স্ট্রাইকারকে সাবধান হতে হবে। বোলারকেও সময় মেনে রানআউট করতে হবে।

ক্রীড়া ডেস্ক