আইপিএলে মুস্তাফিজের দুই ভয়!
মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং-রহস্য উদ্ঘাটনে দিনের বড় একটা সময় কাটে প্রতিপক্ষের। অনেক বিশ্লেষণ করেও তারা যে তেমন সফল নয়, তা তো আইপিএলে মুস্তাফিজের পারফরম্যান্সেই পরিষ্কার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রথমবারের মতো শেষ চারে উত্তরণের পেছনে তাঁর ১৬ উইকেট শিকারের বিশাল ভূমিকা। বাংলাদেশের কাটার-মাস্টারকে নিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা যেমন আতঙ্কিত, তেমনি তিনি নিজেও দুটো জিনিসে ভীত—একটি ইংরেজি, অন্যটি ব্যাটিং।
হায়দরাবাদ দলে যোগ দেওয়ার পর থেকে মুস্তাফিজ শুধু একজনের সঙ্গেই মন খুলে কথা বলতে পারছেন। তিনি রিকি ভুই। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার সময় পরিচয় হয়েছিল দুজনের। রিকি বাংলা জানায় পরিচয়টা এখন পরিণত হয়েছে গভীর বন্ধুত্বে। দলে একমাত্র বাংলা জানেন বলে অন্যদের সঙ্গে মুস্তাফিজের যোগসূত্রও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান রিকি। এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ না পেলেও মুস্তাফিজের ‘দোভাষী’ হওয়ায় দলে তাঁর গুরুত্বও অনেক।
সম্প্রতি ক্রিকেটের সবচেয়ে বিখ্যাত ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিকি জানিয়েছেন, ‘মুস্তাফিজের সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। ইংরেজি বলতে পারে না বলে দলের বাকিদের সঙ্গে তার তেমন কথাবার্তা হয় না। সে শুধু আমার সঙ্গেই কথা বলে। তাই আমাদের সম্পর্কটাও চমৎকার।’
‘ফিজ’-এর ইংরেজি নিয়ে একটা মজার তথ্যও দিয়েছেন রিকি। মুস্তাফিজ নাকি দুটো শব্দই বেশি ব্যবহার করেন কথোপকথনের সময়, “সে শুধু দুটো শব্দই বলে। ‘প্রবলেম’ আর ‘নো প্রবলেম’। শুধু মাঠে নয়, সংবাদ সম্মেলন, স্পন্সরদের অনুষ্ঠান বা টিম ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার সময়ও এ দুটো শব্দই সে বলে। যদি সে বলে ‘প্রবলেম’, তাহলে বুঝতে হবে কিছুই বুঝতে পারছে না। আর ‘নো প্রবলেম’ বললে বুঝতে হবে তাকে কী করতে হবে, তা বুঝতে পারছে।”
তবে দুটো ‘ভয়’ কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না মুস্তাফিজ। এ সম্পর্কে রিকির মন্তব্য, ‘সে সব সময় বলে যে সে ব্যাটিং করতে আর ইংরেজি বলতে চায় না। অবশ্য অল্প কয়েকটি ইংরেজি শব্দ দিয়েই সে কাজ চালিয়ে নিতে পারছে।’
বয়সে এক বছরের বড় মুস্তাফিজ সম্পর্কে আরেকটি তথ্যও দিয়েছেন রিকি। ইংরেজি না জানার কারণে কোনো ম্যাচের আগে টিম মিটিংয়ে নাকি বাংলাদেশের প্রতিভাবান পেসারকে তেমন কিছু জানানো হয় না, ‘প্রথম ১০ ওভার বা পরের অর্ধে তার কী ভূমিকা থাকবে, কোনো ব্যাটসম্যানকে সে কীভাবে বল করবে আর ফিল্ডিং কীভাবে সাজানো হবে, তার ব্যাখ্যা করতে হয় তাকে। টাইম-আউটের সময় আমিই মাঠে গিয়ে অধিনায়ক ওয়ার্নারের কথা তাকে বুঝিয়ে দিয়ে আসি।’

স্পোর্টস ডেস্ক