ইংল্যান্ডেও রহস্যময় মুস্তাফিজ
একটি বছর পার করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। খেলে ফেলেছেন এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আইপিএলে। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের বাঁ হাতে কী জাদু লুকিয়ে আছে, সেই রহস্য এখনো ভেদ করতে পারেনি ক্রিকেটবিশ্ব। ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়েও যথারীতি নিজেকে রহস্যে মুড়ে রেখেছেন ‘ফিজ’। এই রহস্য ভেদ করা যে এত সহজ নয়, সেটা স্বীকারই করে নিয়েছেন সাসেক্সের অধিনায়ক লুক রাইট।
সাসেক্সের জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং করে আলো ছড়িয়েছেন মুস্তাফিজ। এসেক্সের বিপক্ষে চার ওভার বোলিং করে মাত্র ২৩ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন চারটি উইকেট। প্রথম ম্যাচেই জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানরা তো বটেই, ম্যাচের আগে অনুশীলনে মুস্তাফিজের বোলিং বুঝতে পারেননি সাসেক্সের ব্যাটসম্যানরাও। অধিনায়ক রাইট বলেছেন, ‘তিনি যে কখন কী করবেন, এটা বুঝতে পারা খুবই কঠিন। ম্যাচ শুরুর আগে আমরা তাঁর বল বুঝে ওঠার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সেটা পারিনি। আগে থেকে তাঁর বোলিং দেখার সুযোগ না থাকলে মুস্তাফিজকে মোকাবিলা করাটা মোটেই সহজ না।’
বুধবার ইংল্যান্ডে পৌঁছানোর পর বিশ্রামেরও খুব বেশি সময় পাননি মুস্তাফিজ। তড়িঘড়ি করেই নামতে হয়েছিল মাঠে। তার আগে সারতে হয়েছে পরিচিতিপর্ব, সাক্ষাৎকারের মতো নানান আনুষ্ঠানিকতা। এত ধকল সামলিয়েও মুস্তাফিজ যে এভাবে জ্বলে উঠতে পারবেন, তা হয়তো কল্পনা করতে পারেননি সাসেক্সের কর্মকর্তা-নির্বাচকরাও। অধিনায়ক রাইটের কথাতেই পাওয়া গেল সেই ইঙ্গিত, ‘গতকালই (বুধবার) তাঁকে বিমানভ্রমণ করতে হয়েছে। আর তার পর মাঠে নেমেই তিনি এভাবে বোলিং করেছেন। আমাদের হাতে সত্যিই এক অসাধারণ প্রতিভা আছে।’
ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে বেশ খারাপ অবস্থার মধ্যেই ছিল সাসেক্স। ১১ ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ছিল পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে। হারের মুখ দেখেছিল সর্বশেষ দুটি ম্যাচে। কিন্তু মুস্তাফিজ গিয়েই যেন পাল্টে দিচ্ছেন দৃশ্যপট। এখন ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সাসেক্স উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে। গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচে জয় পেলে তারা চলেও যেতে পারে নকআউট পর্বে।

স্পোর্টস ডেস্ক