ম্যারাডোনা থেকে হালান্ড, এক মাঠে দুই কিংবদন্তির ছায়া
যে মাঠে এক কিংবদন্তির বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়েছিল, সেখানেই শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক তারকার গল্প। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ মঞ্চে শেষ উপস্থিতি। তখন ভেন্যুর নাম ছিল ফক্সবোরো স্টেডিয়াম। সময়ের সঙ্গে বদলে এখন সেটির নাম বোস্টন স্টেডিয়াম। সেই মাঠেই স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নরওয়ের হয়ে নামবেন আর্লিং হালান্ড, প্রতিপক্ষ ইরাক।
নরওয়ের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হালান্ডকে ঘিরে প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। কোচ স্টালে সোলবাকেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলস্কোরার। তার মতে, হালান্ড শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সুযোগ পেলেই গোল করার সক্ষমতা তার আছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে এবার কেবল অংশ নিতে আসেনি, এসেছে বড় স্বপ্ন নিয়ে।
দলের সাবেক তারকা টরে আন্দ্রে ফ্লো মনে করেন, বর্তমান নরওয়ে দল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান দলগুলোর একটি। তার মতে, এই দলে আক্রমণে এমন বৈচিত্র্য আছে যে, যেকোনো দিক থেকেই গোল আসতে পারে। আর এই আক্রমণভাগের মূল ভরসা হিসেবে থাকবেন মার্টিন ওডেগার্ড। যিনি হালান্ডের জন্য সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
হালান্ডের প্রস্তুতি কেটেছে ভিন্নভাবে। তিনি মারবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে গলফ খেলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্যানলি কাপ ফাইনাল উপভোগ করেছেন। আত্মবিশ্বাসী এই ফরোয়ার্ড মনে করেন, নরওয়ে গ্রুপ পর্ব পার হবে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড ছিলেন দলের সদস্য। তবে সেবার নরওয়ের ব্যর্থতার স্মৃতি এবার ছেলেই বদলাতে চান।
হালান্ডের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানই তাকে নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত নরওয়ের জার্সিতে তিনি ম্যাচের তুলনায় গোল করেছেন প্রায় সমান হারে, যা আধুনিক ফুটবলে বিরল দৃষ্টান্ত। ক্লাব ফুটবলেও তার গোল করার ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই পরিসংখ্যানের কারণে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটিকে নরওয়ের জন্য সহজ সূচনা হিসেবে দেখা হলেও, কোচিং স্টাফরা সতর্ক। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা চ্যালেঞ্জ।

স্পোর্টস ডেস্ক