ব্রাজিলের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ, হাইতির বাঁচা-মরার লড়াই
বিশ্বকাপের শুরুটা ব্রাজিলের প্রত্যাশামতো হয়নি। মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট হারানো সেলেসাওরা এবার হাইতির বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়া হাইতির সামনে এটি কার্যত বাঁচা-মরার ম্যাচ।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল না ব্রাজিল। ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা। তবে বিরতির আগেই দুর্দান্ত বাঁকানো শটে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ব্রাজিলকে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি ব্রাজিলের জন্য খুব একটা পরিচিত নয়। ১৯৭৮ সালের পর এবারই প্রথম তারা প্রথম দুই ম্যাচের একটিতেও জয় না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। সেই বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচ ড্র করার পর শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠতে পারেনি ব্রাজিল। ফলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এড়াতে হাইতির বিপক্ষে জয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি পরিসংখ্যানও ব্রাজিলকে ভাবাচ্ছে। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে হার এবং এবার মরক্কোর সঙ্গে ড্র মিলিয়ে টানা দুই গ্রুপ ম্যাচে জয়হীন তারা। এর আগে মাত্র একবারই টানা তিনটি বিশ্বকাপ গ্রুপ ম্যাচে জয় পায়নি ব্রাজিল। তাই হাইতির বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে সেই রেকর্ডে আর নাম লেখাতে চাইবে না সেলেসাওরা।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে আরেকটি অস্বস্তিকর পরিসংখ্যানও দেখা গেছে। প্রতিপক্ষ ১৪টি শট নেওয়ার বিপরীতে ব্রাজিল নিতে পেরেছিল ১২টি। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো দল ব্রাজিলের চেয়ে বেশি শট নিল। এর আগে টানা ২২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে শটের দিক থেকে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল।
ব্রাজিলের অবশ্য বড় ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে দুটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। অর্থাৎ, প্রতি ৯৮ মিনিটে একটি করে গোলে অবদান রাখছেন তিনি। গত দুই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আর কোনো খেলোয়াড়ের এমন কার্যকর পারফরম্যান্স নেই।
অন্যদিকে, ৫৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম ম্যাচেই হতাশ হয়েছে হাইতি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তারা ১–০ গোলে হেরেছে। ফলে নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে ব্রাজিলের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল আনতেই হবে।
যদিও বিশ্বকাপের ইতিহাস হাইতির পক্ষে নেই। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা সব ম্যাচেই হেরেছে ক্যারিবীয় দেশটি। এসব ম্যাচে তারা মাত্র দুটি গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে ১৫টি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পাঁচটি ম্যাচ হারার নজির রয়েছে মাত্র তিন দেশের।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অবশ্য সাহসী ফুটবল খেলেছিল হাইতি। গ্রুপ সি’র সব দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫টি শট নিয়েছিল তারা। প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শের সংখ্যাতেও ব্রাজিলের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল। যদিও ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সহজ হবে না।
রক্ষণে হাইতির অন্যতম ভরসা হ্যানেস ডেলক্রোয়া। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৬৬টি পাস দিয়েছেন এবং একটিও ভুল পাস করেননি। পাশাপাশি বল পুনরুদ্ধার ও ক্লিয়ারেন্সেও ছিলেন দলের সেরা। বিশ্বকাপে কোনো হাইতির খেলোয়াড়ের এক ম্যাচে এত সফল পাসের রেকর্ডও এটিই প্রথম।
বিশ্বকাপে এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও হাইতি। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আগের তিন দেখাতেই জয় পেয়েছে ব্রাজিল। সেই তিন ম্যাচে তারা করেছে ১৭ গোল, বিপরীতে হাইতি করতে পেরেছে মাত্র একটি। দুই দলের সর্বশেষ লড়াই হয়েছিল ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ৭–১ গোলের বড় জয় পেয়েছিল ব্রাজিল।
সবদিক বিবেচনায় এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট ব্রাজিল। উদ্বোধনী ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়ানোর আদর্শ সুযোগ এটি। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা জিইয়ে রাখতে ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নামবে হাইতি।
সম্ভাব্য একাদশ
ব্রাজিল : আলিসন বেকার, দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, অ্যালেক্স সান্দ্রো, কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, লুকাস পাকেতা, রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নেইমার।
হাইতি : জনি প্লাসিদে, কার্লেন্স আরকুস, রিকার্দো আদে, হ্যানেস ডেলক্রোয়া, জ্যাঁ কেভিন ডুভের্নে, কার্ল সাঁতে, ড্যানলি জ্যাঁ জ্যাক, লেভারটন পিয়ের, ডেরিক এতিয়েন, ডাকেন্স নাজঁ ও ফ্রান্টজদি পিয়েরো।

স্পোর্টস ডেস্ক