নরওয়েকে উড়িয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে ফ্রান্স
ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আর্লিং হলান্ড। এই দুই তারকার দ্বৈরথ দেখার জন্যই মুখিয়ে ছিলেন দর্শকরা। এমবাপ্পের ঝলক দেখা গেলেও দেখা গেলো না হলান্ডকে। তাকে সহ দলের সেরা তারকাদের ছাড়াই মাঠে নেমেছিল নরওয়ে। তার ফলাফলটাও হাতেনাতে পেয়েছে নরওয়ে। ফরাসির আক্রমণে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে তারা। হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন ওসমান দেম্বেলে। বড় জয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স আর নরওয়ে। একপেশে ম্যাচ শেষে নরওয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স।
এই জয়ে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ শেষে ৩ জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েণ্ট টেবিলের শীর্ষে ফ্রান্স। তিন ম্যাচে দুই জয় আর এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে থেকে নকআউটে কোয়ালিফাই করল নরওয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ফ্রান্স। পঞ্চম মিনিটেই গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল তারা। বক্সের মধ্যে কুন্দের কাট-ব্যাকটি ক্লিয়ার হলেও ফিরতি বল পেয়ে যান দারুণ শট নিয়েছিলেন কোনে, কিন্তু সেটি আটকে দেন গোলরক্ষক সেলভিক।
তবে তিন মিনিট পর আর ফ্রান্সকে আটকে রাখতে পারেনি নরওয়ে। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ফরাসিদের লিড এনে দেন দেম্বেলে। মাঝ মাঠ থেকে বাড়ানো ক্রস থেকে বলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডি-বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর সামনে থাকা ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বুলেট গতির শট নেন দূরের পোস্টে। এবার গোলরক্ষকের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।
গোল পেয়ে যেনো আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। পরের ১৫ মিনিটে নরওয়ের রক্ষণে আরও অন্তত ৫টি আক্রমণ হানে ফ্রান্স। সেই চাপ তৈরি করে দ্বিতীয় গোলও আদায় করে নেয় ফরাসিরা। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান দেম্বেলে।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের পাস থেকে বল পেয়েছিলেন দেম্বেলে। বক্সের সামনে থেকে বুলেট গতির কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
পরের মিনিটেই অবশ্য গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরার বার্তা দেয় নরওয়ে। বক্সের লাইনে বল পান থেলো আসগার্ড। মুহূর্তেই নিজের শরীরটাকে ঘুরিয়ে নিয়ে বোকা বানান ফ্রান্সের ডিফেন্ডারদের। এরপর দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ মনে করেছিলেন আসগার্ড দূরের পোস্টে শট নেবেন, তিনি নিজেই ঝুঁকে পড়েছিলেন। তবে, গোলরক্ষককে বোঁকা বানিয়ে তিনি কাছের পোস্টেই শট নেন।
এক গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরার যে স্বপ্ন দেখছিল নরওয়ে, ১০ মিনিট পরই সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন দেম্বেলে। পূরণ করে নেন হ্যাটট্রিক। দারুণ পাসে ডি-বক্সের মধ্যে দেম্বেলেকে খুঁজে নেন চুয়ামেনি। শটের জায়গা করে নিতে ডামি শটে বোকা বানান নরওয়ের ডিফেন্ডারদের। এরপর নিখুঁত প্লেসিং ও কোণাকুণি শটে গোলরক্ষক সেলভিককে পরাস্ত করেন দেম্বেলে। এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের তৃতীয় হ্যাটট্রিক।
শেষ দিকেও সমানতালে আক্রমণ করেছে ফ্রান্স। তবে আর গোল আদায় করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে, কয়েকবার প্রতিআক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের চিত্রটা ছিল অবশ্য ভিন্ন। এই অর্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে নরওয়ে। একের পর এক তারা আক্রমণ হানে ফ্রান্সের রক্ষণে। ফ্রান্সও কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। গোলের সুযোগও অবশ্য পেয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচে ফেরার সূবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে বক্সের মধ্যে নরওয়ের অস্কার ববকে ফাউল করেন থিও হার্নান্দেজ। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
হলান্ড না থাকায় পেনাল্টি নিতে যান ইয়োরগেন স্ট্রান্ড লারসেন। কিন্তু তার শট রুখে দেন গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। বামদিকে প্লেসিং শট করেছিলেন লারসেন। বলের লাইনে ঝাপিয়ে পড়ে সেটি আটকে দিয়ে নরওয়ের ম্যাচে ফেরার আশা ভঙ্গ করেন মাইক মাইনিয়ঁ।
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে নরওয়েকে আরেকবার হতাশ করেন মাইক মাইনিয়ঁ। বল নিয়ে ডি-বক্সের ঢুকে দারুণ একটি প্লেসিং শট নিয়েছিলেন অস্কার বব। তবে ববের শটের চেয়েও যেনো সুন্দর ছিল মাইক মাইনিয়েঁর সেভ। ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি আটকে দেন তিনি।
নরওয়ের আক্রমণের মাঝেই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে নরওয়ের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন দিজিরে দুয়ে। ডি-বক্সের মধ্যে উড়ে আসা বল দারুণ হেডে জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল।

স্পোর্টস ডেস্ক