সালাহর জাদুকরী শট, পানেনকার গল্প জানেন?
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের ঐতিহাসিক জয়ে টাইব্রেকারে মোহাম্মেদ সালাহর দৃষ্টিনন্দন চিপে গোলটি মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। তার সেই শট ঘিরে অনেক ফুটবলপ্রেমীর মনেই প্রশ্ন জেগেছে, এই জাদুকরী গোলের নাম কী? কেন এমন শটকে পানেনকা বলা হয়? এর পেছনের গল্পটিও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
পেনাল্টিতে সাধারণত ফুটবলাররা জোরে কিংবা কোনা লক্ষ্য করে শট নেন। কিন্তু পানেনকা কৌশলে খেলোয়াড় গোলরক্ষকের গতিবিধির অপেক্ষা করেন। গোলরক্ষক একদিকে ঝাঁপ দিলেই আলতো করে বলটি চিপ করে গোলের মাঝখান দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। দেখতে সহজ মনে হলেও এটি ফুটবলের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শট। গোলরক্ষক যদি মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাহলে মুহূর্তেই ব্যর্থ হতে পারে পুরো পরিকল্পনা।
এই কৌশলের নাম এসেছে চেকোস্লোভাকিয়ার সাবেক ফুটবলার অ্যান্টোনিন পানেনকার নাম থেকে। ১৯৭৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী শটে তিনি প্রথম এই অভিনব কৌশল ব্যবহার করেন। গোলরক্ষক সেপ মায়ার একদিকে ঝাঁপ দিতেই পানেনকা আলতো করে বলটি গোলের মাঝখান দিয়ে জালে পাঠান। সেই গোলেই শিরোপা জেতে চেকোস্লোভাকিয়া। এরপর থেকেই তার নাম অনুসারে এই শটের নাম হয়ে যায় ‘পানেনকা’।
ফুটবলে পানেনকা শটকে আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষাও বলা হয়। কারণ এমন শট নিতে যেমন সাহস লাগে। তেমনি দরকার নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সময়জ্ঞান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে সফল পানেনকা শটে গোল করে মোহাম্মেদ সালাহ আবারও আলোচনায় এনেছেন ফুটবলের এই বহুল পরিচিত পেনাল্টি কৌশলকে।

স্পোর্টস ডেস্ক