নাটকীয়তায় ভরা ব্রাজিল-নরওয়ের প্রথমার্ধে গোল পেল না কেউ
ডালাসে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শুরু থেকেই জমে ওঠে ব্রাজিল ও নরওয়ের ম্যাচ। আক্রমণ, চাপ আর একের পর এক নাটকীয় মুহূর্তে ভরপুর প্রথমার্ধে গোলের দেখা না মিললেও উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ব্রাজিল। বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। বরং ১৩তম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টিই হয়ে ওঠে ম্যাচের বড় টার্নিং পয়েন্ট।
ব্রুনো গুইমারায়েস থেমে থেমে দৌড়ের রান আপ নিয়ে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন। তবে তার নেওয়া শট যথেষ্ট শক্তিশালী বা নিখুঁত কোণাকুণি ছিল না। নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ড দারুণভাবে দিক বুঝে বল ঠেকিয়ে দেন। ফলে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় সেলেসাওরা।
এই সেভের পর নরওয়ে ম্যাচে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ার চাপ কাটিয়ে তারা ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে।
এর আগে ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটে নরওয়ে গোলের স্বাদ পেয়েছিল। তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এতে শুরু থেকেই ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রাজিলও একাধিক সুযোগ তৈরি করে। ক্যাসেমিরো বক্সের ভেতর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির উদ্দেশ্যে দারুণ এক ভাসানো পাস দেন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে মার্টিনেল্লি বলের নিচ দিয়ে লাফিয়ে যান। নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় সেলেসাওদের।
অন্যদিকে, নরওয়ের আক্রমণে বড় হুমকি ছিলেন আর্লিং হলান্ড। বক্সের ধার ঘেঁষে গ্যাব্রিয়েলকে পরাস্ত করে তিনি বল দখল করেন। এরপর মার্টিন ওডেগার্ড বক্সের ভেতর থেকে নিচের কোণ লক্ষ্য করে শট নেন, কিন্তু দুর্দান্তভাবে তা রুখে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন।
সব মিলিয়ে এই পেনাল্টি মিস ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের এক অনন্য রেকর্ডের ইতি টেনেছে। ১৯৮৬ সালে জিকোর ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর বিশ্বকাপে মূল সময়ে সেলেসাওদের পেনাল্টি সফলতার শতভাগ ধারাটি এবার ভেঙে গেল।
সবমিলিয়ে প্রথমার্ধে দুই দলই সুযোগ পেলেও কোনো গোল হয়নি। পেনাল্টি মিস, অফসাইডে গোল বাতিল এবং দুই প্রান্তের গোলরক্ষকদের দৃঢ়তায় ম্যাচ এখনো সমতায় দাঁড়িয়ে আছে দ্বিতীয়ার্ধে অপেক্ষা আরও উত্তেজনার।

স্পোর্টস ডেস্ক