স্পেনের ধারাবাহিকতা নাকি পর্তুগালের অভিজ্ঞতা, কে হাসবে শেষ হাসি?
উত্তেজনার পারদ এখন আকাশছোঁয়া। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ভুলের কোনো সুযোগ নেই। হার মানেই বিদায়। এমন কঠিন সমীকরণ নিয়েই এবার মুখোমুখি ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল ও স্পেন। একই উপদ্বীপের এই দুই ফুটবল পরাশক্তির ‘ইবেরিয়ান ডার্বি’ শুধু শেষ আটে ওঠার লড়াই নয়। ইতিহাস, মর্যাদা ও আধিপত্যেরও পরীক্ষা।
নাটকীয়ভাবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা পর্তুগালের সামনে এবার টুর্নামেন্টের সবচেয়ে পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ দল স্পেন। তাই ডালাসের এই মহারণ ঘিরে ফুটবল বিশ্বের নজর এখন সেদিকেই। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
পর্তুগাল শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোল করেন। এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোস জয়সূচক গোল করেন। শেষ দিকে যোশকো গভার্দিওলের গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়ায় পর্তুগাল স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে। এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাদের সামনে।
তারা সর্বশেষ ২০০৬ বিশ্বকাপে টানা দুই নকআউট ম্যাচ জিতেছিল, যখন নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি।
অন্যদিকে, স্পেন এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের অন্যতম ধারাবাহিক দল। শেষ বত্রিশে তারা অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল এবং একটি গোল করেন পেদ্রো পোরো। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। যা তাদের রক্ষণভাগের অসাধারণ দৃঢ়তার প্রমাণ।
এবারের বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়া স্পেন ইতিহাসের এক বিরল রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তারা ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গোল হজম করেনি। ফলে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে এটি হবে তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক কৃতিত্ব।
সাম্প্রতিক সময়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত। এই সময়ে তারা আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই অসাধারণ ভারসাম্য দেখিয়েছে এবং ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে।
পর্তুগালও আক্রমণে কার্যকর ফুটবল খেলছে। এবারের বিশ্বকাপে তারা গড়ে প্রতি ম্যাচে ১.৬ প্রত্যাশিত গোল তৈরি করছে। যা তাদের সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।
ব্যক্তিগত লড়াইয়ে নজর থাকবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিকে। যিনি স্পেনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে চারটি গোল করেছেন। অন্যদিকে, স্পেনের আক্রমণের বড় ভরসা মিকেল ওইয়ারসাবাল। যিনি ইতোমধ্যেই এই আসরে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখছেন।
মুখোমুখি ইতিহাসও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বড় টুর্নামেন্টে দুই দলই সমানভাবে জয় ভাগ করে নিয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপে তাদের ৩-৩ গোলে রোমাঞ্চকর ড্র এখনো স্মরণীয়, যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ইউরো ২০১২ সেমিফাইনালে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে উঠেছিল স্পেন।
স্পেন সাম্প্রতিক ফর্ম ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় এগিয়ে থাকলেও নকআউট ফুটবলে একটি মুহূর্তই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। তাই ডালাসে এই ইবেরিয়ান ডার্বিতে শেষ পর্যন্ত কোন দল কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
পর্তুগাল : দিয়োগো কোস্তা, দিয়োগো দালোত, রুবেন দিয়াস, আন্তোনিও সিলভা, নুনো মেন্ডেস, জোয়াও নেভেস, ভিটিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লিয়াও, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
স্পেন : উনাই সিমন, দানি কারভাহাল, আয়মেরিক লাপোর্তে, পাও কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, মিকেল ওইয়ারসাবাল

স্পোর্টস ডেস্ক