ফ্রান্সকে হারালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবি রাখে মরক্কো : রিয়াসাত
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জার্মান ফুটবল কোচ রিয়াসাত ইসলাম খাতনের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে জার্মানিতে। ফ্রেইবুর্গের একাডেমিতে ফুটবলের হাতেখড়ি এবং বেড়ে ওঠা। খেলোয়াড়ি জীবনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্লাবে খেলেছেন। একসময় বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেলেও শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বর্তমানে জার্মান ক্লাব এফএসভি উলফহাগেনের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার স্ত্রী মরক্কান নাগরিক। পারিবারিক বন্ধনের কারণে মরক্কো ও ফ্রান্সের ম্যাচটি তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এই ম্যাচ ও ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রিয়াসাত, সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনিরুল ইসলাম।
মরক্কো ও ফ্রান্স ম্যাচের বাইরে জানতে চাই, ব্যক্তিগতভাবে আপনি কোন দলের সমর্থক?
রিয়াসাত ইসলাম খাতন : আমি মরক্কোর পক্ষেই আছি। আশা করছি, তারা দারুণ লড়াই করে ২-১ গোলে ম্যাচটি জিতবে।
বাংলাদেশি শিকড়, জার্মানির ফুটবল অভিজ্ঞতা এবং মরক্কোর সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন সব মিলিয়ে এই ম্যাচটি আপনার কাছে কতটা বিশেষ?
রিয়াসাত ইসলাম : এই ম্যাচটি শুধু আমার জন্য নয়। আমার স্ত্রী, তার পরিবার ও আমার বাবা মায়ের কাছেও খুবই বিশেষ। আমরা নিয়মিত মরক্কো যাই। দেশটির মানুষ, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা আমাদের ভীষণ ভালো লাগে। ধীরে ধীরে মরক্কোর প্রতি আমাদের আলাদা একটা টান তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই আমরা জার্মানি ও মরক্কো, দুই দলকেই সমর্থন করে আসছি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে জার্মানি এবার টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
আপনার স্ত্রী মরক্কোর নাগরিক। ম্যাচের আগে পরিবারে সমর্থন নিয়ে কোনো মজার প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে?
রিয়াসাত ইসলাম : বিষয়টি মূলত জার্মানি ও মরক্কোকে ঘিরেই। আমি ও আমার বাবা মা মনে করি, জার্মানি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী দল। অন্যদিকে আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের বিশ্বাস, মরক্কোই সেরা। তবে
মজার বিষয় হলো, এবার দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়নি।
মরক্কো দলের কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে?
রিয়াসাত ইসলাম : তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি দলগত খেলা। আক্রমণ থেকে রক্ষণ। সব জায়গায় সবাই দায়িত্ব নিয়ে খেলে। একজন আরেকজনের জন্য লড়াই করে। এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।
ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মরক্কোকে কোন জায়গায় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে?
রিয়াসাত ইসলাম : সবদিকেই সতর্ক থাকতে হবে। এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সই সবচেয়ে শক্তিশালী দল। মাঠের প্রতিটি পজিশনে তাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে। তবে আমার বিশ্বাস, মরক্কো যদি ফ্রান্সকে হারাতে পারে, তাহলে শিরোপা জয়েরও সবচেয়ে বড় দাবিদার হবে।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগে এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও বারকোলার মতো খেলোয়াড় রয়েছেন। তাদের থামাতে মরক্কোর কৌশল কী হওয়া উচিত?
রিয়াসাত ইসলাম : পুরো ম্যাচে রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ডের মধ্যে দূরত্ব কম রাখতে হবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। কারণ ফ্রান্স সুযোগ পেলেই গোল করতে পারে। তাই শুধু রক্ষণে ভালো খেললেই হবে না। আক্রমণেও কার্যকর হতে হবে। আমার মনে হয়, জিততে হলে মরক্কোকে অন্তত দুটি গোল করতে হবে।
সবশেষে জানতে চাই, এই ম্যাচে মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি কী?
রিয়াসাত ইসলাম : আমার মতে, মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলীয় ঐক্য। সবাই একে অপরের জন্য খেলে, একসঙ্গে লড়ে। এই ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক