দুর্ভেদ্য স্পেনের সামনে ছন্দে থাকা বেলজিয়াম, সেমিফাইনালের লড়াইয়ে কার হাসি?
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই যেন একেকটি ফাইনাল। তবে শেষ আটে স্পেন ও বেলজিয়ামের লড়াইটি আলাদা করেই নজর কাড়ছে। একদিকে টানা ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট রেখে রক্ষণকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা স্পেন। অন্যদিকে, আক্রমণে দারুণ ছন্দে থাকা বেলজিয়াম। চার্লস ডি কেটেলারে, জেরেমি ডোকু কিংবা রোমেলু লুকাকুদের সামনে অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন রক্ষণভাগ।
অন্যদিকে, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি ও পেদ্রিদের নৈপুণ্যে ভর করে স্পেনও আত্মবিশ্বাসী। সবমিলিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে উত্তেজনাপূর্ণ এক মহারণ। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
রুডি গার্সিয়ার অধীনে বেলজিয়াম ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরেছে। গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান দখলের পর শেষ ষোলোতে অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারায় তারা। এরপর স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে রেড ডেভিলসরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চার্লস ডি কেটেলারে জোড়া গোল করেন। বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন হ্যান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকুও। চলতি বিশ্বকাপে লুকাকুর তিনটি গোলই এসেছে বদলি হিসেবে নেমে। তাই এবারও তাকে শুরুর একাদশের বাইরে দেখা যেতে পারে।
আক্রমণে বেলজিয়াম দারুণ ধারাবাহিক। পাঁচ ম্যাচে তারা মোট ১০৭টি শট নিয়েছে, ম্যাচপ্রতি গড়ে ২১.৪টি। সুযোগ তৈরির পাশাপাশি গোল করার দক্ষতাও দারুণ, যা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে গার্সিয়ার দলের।
তবে বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে স্পেনের রক্ষণভাগের সামনে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি। সবমিলিয়ে ১০ ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে তাদের জালে বল পাঠাতে পারেনি কোনো প্রতিপক্ষ। চলতি আসরে রক্ষণে সবচেয়ে সংগঠিত দলগুলোর একটি স্পেন।
শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের শেষ দিকে মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন। সেই জয়ে বিশ্বকাপের ষষ্ঠবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় লা রোহারা।
স্পেনের আক্রমণের বড় ভরসা লামিনে ইয়ামাল। তরুণ এই উইঙ্গার ড্রিবলিং ও গতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিয়মিত ভীতি ছড়াচ্ছেন। মাঝমাঠে রদ্রির নিখুঁত পাস ও খেলার নিয়ন্ত্রণ স্পেনকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
অতীত পরিসংখ্যানও স্পেনের পক্ষেই কথা বলছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ১১ ম্যাচে অপরাজিত তারা। এর মধ্যে ৯টিতে জিতেছে, ড্র করেছে দুটি। সর্বশেষ পাঁচ দেখায় স্পেন করেছে ১৩ গোল, বিপরীতে বেলজিয়ামের গোল মাত্র একটি।
তবে বিশ্বকাপে বেলজিয়ামেরও সুখস্মৃতি রয়েছে। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পেনকে বিদায় করেছিল তারা। এরপর ১৯৯০ সালের গ্রুপ পর্বে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল স্পেন।
বর্তমান ফর্ম, শক্তিশালী রক্ষণ এবং দলগত ভারসাম্যের কারণে স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হলেও, বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে দুই দলকেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
স্পেন: উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেলা, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস, পেদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, মিকেল ওইয়ারসাবাল।
বেলজিয়াম: থিবো কোর্তোয়া, টিমোথি কাস্তানে, জেনো ডেবাস্ত, আর্থার থিয়াতে, ম্যাক্সিম ডি কুইপার, আমাদু ওনানা, ইউরি টিলেমান্স, কেভিন ডি ব্রুইনা, জেরেমি ডোকু, চার্লস ডি কেটেলারে, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার।

স্পোর্টস ডেস্ক