মেসির প্রথম ইংল্যান্ড ম্যাচে ফিরে আসছে হ্যান্ড অব গডের পুরোনো স্মৃতি
ফুটবল ক্যারিয়ারে প্রায় সবকিছুই অর্জন করেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা শিরোপা, অসংখ্য ব্যক্তিগত পুরস্কার ও রেকর্ড-- সবই রয়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার ঝুলিতে। তবে এত সাফল্যের মাঝেও একটি অধ্যায় এতদিন অসম্পূর্ণ ছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা হয়নি মেসির। এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
আটলান্টায় বুধবার (১৫ জুলাই) মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই দলের এই লড়াই শুধু ফাইনালের টিকিট পাওয়ার যুদ্ধ নয়। মেসির জন্যও এটি হতে যাচ্ছে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০০টির বেশি ম্যাচ খেলা এবং ১২৫ গোল করা এই তারকা প্রথমবারের মতো মাঠে নামবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মেসি। অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গোল না করেও আট গোল নিয়ে তিনি এখনো গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন।
মেসিকে ঘিরে ইংল্যান্ডের পরিকল্পনাই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। সাবেক ইংল্যান্ড ফুটবলার মিকা রিচার্ডসের মতে, মেসিকে আটকানো সহজ নয়। তিনি বলেন, মেসি খুব বেশি দৌড়ান না, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে গিয়ে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। তার টেকনিক, মাঠ বোঝার ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল দ্বৈরথ বহু পুরোনো। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল থেকে শুরু করে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড, দুই দলের লড়াই বরাবরই উত্তেজনা ও নাটকীয়তায় ভরা। প্রায় ২১ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। এবার সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথে যুক্ত হচ্ছেন লিওনেল মেসি। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন আটলান্টার দিকে। প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে মেসি কি নতুন কোনো স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

স্পোর্টস ডেস্ক