বিশ্বকাপে গোল মিস করায় হত্যার হুমকি, আত্মগোপনে ফুটবলার
বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায়ের হতাশা অনেক সময় মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তার বড় প্রমাণ পেল ফুটবল বিশ্ব। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে একটি গোল মিস করার জেরে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন কলম্বিয়ান উইঙ্গার হামিন্তন কাম্পাস। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এই ফুটবলার বাধ্য হয়েই এখন আত্মগোপনে চলে গেছেন।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নকআউট পর্বের সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গোল করার একটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন কাম্পাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি।
এরপর ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায় এবং সেখানে কলম্বিয়া হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। দলের এই পরাজয়ের পর থেকেই কাম্পাসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া শুরু করেন ক্ষুব্ধ সমর্থকরা।
ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে কলম্বিয়ায় ফেরেননি এই ২৬ বছর বয়সী তারকা। তার এই নিখোঁজ হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। অবশেষে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়ে কাম্পাস জানিয়েছেন, তিনি মানসিকভাবে কতটা বিপর্যস্ত।
তিনি লিখেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে জড়ানোর, মাঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত শোনার, লাখো মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার এবং বিশ্বকাপে গোল করার।’
গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছিলেনও কাম্পাস। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মিস করেন। সেজন্য ইনস্টাগ্রাম পোস্টে দুঃখও প্রকাশ করেছেন কাম্পাস।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই, দেশের জার্সির প্রতি আমার ভালোবাসা ও নিবেদনের কোনো কমতি ছিল না। মাঠের লড়াইয়ে আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যে আনন্দ আমি আপনাদের দিতে চেয়েছিলাম, তা না পারার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত।’
কাম্পাসের এমন পরিস্থিতির কথা শুনে অনেকের মনেই ভেসে উঠছে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই কালো অধ্যায়, যেখানে আত্মঘাতী গোল করার অপরাধে দেশে ফিরে প্রাণ দিতে হয়েছিল কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারকে।
কাম্পাসের এমন পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কোনো ফুটবলার কিংবা তার পরিবারকে এভাবে হুমকির মুখে পড়তে হবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
কাম্পাস ও তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে ফুটবল ফেডারেশন।

স্পোর্টস ডেস্ক