গোলশূন্য প্রথমার্ধে জমে উঠল সেমিফাইনাল
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমার্ধে গোলের দেখা মেলেনি। তবে স্কোরলাইন গোলশূন্য হলেও আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ছিল উত্তেজনা, শারীরিক লড়াই এবং কৌশলগত দ্বৈরথে ভরপুর। আটলান্টায় শুরু থেকেই মাঝমাঠের দখল নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা, কঠিন ট্যাকল, বাকবিতণ্ডা ও কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ।
বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুধবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং ডান প্রান্তকে কাজে লাগিয়ে সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে নামে ইংল্যান্ড।
মাঝমাঠে ডেকলান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও মর্গান রজার্সের বিপরীতে এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার সমানতালে লড়াই চালিয়ে যান।
ম্যাচের ১২তম মিনিটে প্রথমবারের মতো ম্যাচের উত্তাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাঝমাঠে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে কঠিন ট্যাকল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ফাউলের পর দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে দ্রুত সেখানে যোগ দেন মর্গান রজার্স ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস। রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিলেও সেমিফাইনালের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার বার্তা তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়।
২০তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে ইংল্যান্ড। দ্রুত পাসের সমন্বয়ে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে নিচু ক্রস পাঠান রিস জেমস। বক্সে অপেক্ষায় ছিলেন ইংলিশ ফুটবলার। তবে দারুণ ক্ষিপ্রতায় সামনে এগিয়ে এসে বলটি নিরাপদে গ্লাভসবন্দি করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে আসে প্রথম উল্লেখযোগ্য গোলের প্রচেষ্টা। ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক দূরের পোস্টে ভেসে গেলে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে টপকে হেড করেন জন স্টোনস। তবে চাপে থাকায় তার হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। বল পোস্টের বাইরে চলে যায়। এটিই ছিল ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য শট।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচ আরও শারীরিক রূপ নেয়। একের পর এক ফাউল ও শক্ত ট্যাকলে খেলা বারবার থেমে যায়। ৩৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষকে থামাতে গিয়ে বাজে ফাউল করেন ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হলুদ কার্ড দেখান। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে আরও সতর্ক হয়ে খেলতে হবে ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডারকে।
প্রথম ৪৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইংল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণ ছিল সমান কার্যকর। দুই দলের রক্ষণভাগও ছিল দারুণ সংগঠিত। ফলে আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার দেখা যায়নি।
তবে ম্যাচের গতি, লড়াইয়ের তীব্রতা এবং দুই দলের কৌশলগত লড়াই ইঙ্গিত দিচ্ছে, দ্বিতীয়ার্ধে একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে এই সেমিফাইনালের ভাগ্য। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়ার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

স্পোর্টস ডেস্ক