ফাইনালের এক ম্যাচেই বদলে যেতে পারে ব্যালন ডি'অরের গল্প
বিশ্বকাপের ফাইনাল সব সময়ই ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। এবার স্পেন ও আর্জেন্টিনার লড়াইকে ঘিরে সেই উত্তেজনার সঙ্গে যোগ হয়েছে আরেকটি বড় সমীকরণ। নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রোববারের এই মহারণের ফল ২০২৬ সালের ব্যালন ডি'অরের দৌড়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত এই পুরস্কারের লড়াইয়ে লিওনেল মেসি, লামিনে ইয়ামালসহ কয়েকজন তারকার ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটির ওপর। তাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের পাশাপাশি সবার নজর থাকবে ব্যালন ডি'অরের সমীকরণেও।
ইতিহাস বলছে, ব্যালন ডি'অর জয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বড় শিরোপা জয়ের গুরুত্বও অনেক। গত ১৯টি আসরের মধ্যে মাত্র চারবার এমন হয়েছে, যখন বিজয়ী একই বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরো বা কোপা আমেরিকার কোনো শিরোপা জিততে পারেননি। এর মধ্যে তিনবারই ছিলেন লিওনেল মেসি (২০১০, ২০১২ ও ২০১৯) এবং একবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (২০১৩)। ফলে দুর্দান্ত মৌসুম কাটালেও বড় ট্রফির অভাবে হ্যারি কেইন, আলিং হলান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে, ডেকলান রাইস ও জুড বেলিংহ্যামের মতো তারকারা কিছুটা পিছিয়ে আছেন।
ব্যালন ডি'অরের দৌড়ে সবচেয়ে বড় নাম লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক দেখাচ্ছেন তার জাদু। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলেছেন তিনি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও আছেন এগিয়ে। রোববার শিরোপা জিততে পারলে মেসি ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বেন। একই সঙ্গে রেকর্ড নবম ব্যালন ডি'অর জয়ের দাবি আরও শক্তিশালী হবে।
তবে মেসির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত ঝলক দেখাতে না পারলেও স্পেনের ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট করা ইয়ামাল ইতোমধ্যে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। স্পেন বিশ্বকাপ জিততে পারলে তার ব্যালন ডি'অর জয়ের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যাবে।
এ ছাড়া বর্তমান ব্যালন ডি'অর জয়ী ওসমান দেম্বেলে, খভিচা কভারাতসখেলিয়া, হ্যারি কেইন, এমবাপ্পে ও হলান্ডও রয়েছেন আলোচনায়। দেম্বেলে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপেও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। কেইন ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় তার সম্ভাবনায় প্রভাব পড়েছে। এমবাপ্পে ও হলান্ডও ব্যক্তিগত সাফল্যে উজ্জ্বল হলেও বড় ট্রফির হিসাব তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবমিলিয়ে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি'অরের লড়াই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার লড়াই তাই শুধু একটি ট্রফির জন্য সীমাবদ্ধ থাকছে না, ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রোববারের ফলই হয়তো ঠিক করে দেবে, মেসির অভিজ্ঞতা জয়ী হবে, নাকি ইয়ামালের মতো নতুন প্রজন্মের কোনো তারকা উঠে আসবেন বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে।

স্পোর্টস ডেস্ক