সেমির হতাশা ভুলে ব্রোঞ্জ জয়ের লড়াইয়ে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপের এমন এক ম্যাচ, যেটি শুরু হওয়ার আগে কেউ জিততে চায় না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারতেও চায় না। এমন এক লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ব্রোঞ্জ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও, দুই দলের চোখেই থাকছে সেমিফাইনালের হতাশা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ৩টায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রে মায়ামিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স আর ইংল্যান্ড।
সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায় ফ্রান্সের। পুরো ম্যাচে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। মাত্র ০.৩১ এক্সপেক্টেড গোল তৈরি করতে পারা ফরাসিদের আক্রমণভাগ ছিল নিষ্প্রভ। ম্যাচ শেষে কোচ দিদিয়ের দেশমের কৌশল নিয়েও সমালোচনা ওঠে, এমনকি এমবাপ্পেও খোলাখুলিভাবে হতাশা প্রকাশ করেন।
এই ম্যাচটি দেশমের জন্য বিশেষ, কারণ এটি হতে যাচ্ছে তার শেষ দায়িত্ব পালন করা ম্যাচ। এর আগে ১৯৫৮ ও ১৯৮৬ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ জিতেছিল ফ্রান্স। তবে ১৯৮২ সালে চতুর্থ হয়ে ফিরতে হয়েছিল তাদের।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের গল্পও প্রায় একই। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হারতে হয় থ্রি-লায়ন্সদের। প্রথমে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গেলেও, লিওনেল মেসির দুই অ্যাসিস্টে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোল ইংল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
ইংল্যান্ডের বড় ম্যাচে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা যেন কাটছেই না। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শীর্ষ ১০ দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ খেলে একটিতেও জয় পায়নি তারা। ২০১৮ সালের মতো এবারও সেমিফাইনালে এগিয়ে থেকেও হারের কষ্ট বয়ে বেড়াতে হচ্ছে দলটিকে।
কোচ টমাস টুখেলের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে এই ম্যাচে জিতলে বিশ্বকাপে তাদের দ্বিতীয় সেরা অর্জন হিসেবে ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে ফিরতে পারবে ইংল্যান্ড।
পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ নয় ম্যাচে মাত্র একবার জয় পেয়েছে তারা। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের কাছে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
ফ্রান্স: মাইক মাইনিয়ঁ, জুল কুন্দে, দায়োত উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, থিও হার্নান্দেজ, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, আদ্রিয়েন রাবিও, ব্র্যাডলি বার্কেলো, ওসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ইংল্যান্ড: জর্ডান পিকফোর্ড, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, রিস জেমস, ডেকলান রাইস, জুড বেলিংহ্যাম, ইলিয়ট অ্যান্ডারসন, মর্গান রজার্স, হ্যারি কেইন, অ্যান্থনি গর্ডন।

স্পোর্টস ডেস্ক