এমবাপ্পেদের হতাশ করে প্রথমার্ধেই ইংল্যান্ডের গোল উৎসব
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারছে না ফ্রান্স। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে ফরাসি রক্ষণকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। ডেকলান রাইসের দ্রুত গোলে শুরু হওয়া ইংল্যান্ডের গোল উৎসবে জোড়া গোল করেছেন বুকায়ো সাকা, সঙ্গে এজরি কনসার এক গোলে প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ফ্রান্সকে দেখা গেছে ছন্নছাড়া ও অসহায় অবস্থায়।
শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। সেমিফাইনালে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হলেও বিশ্বকাপের শেষটা জয় দিয়ে রাঙানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে ইংল্যান্ড। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভেদ করে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস। তার নিখুঁত ফিনিশে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স।
গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি ইংল্যান্ড। ১২তম মিনিটে বুকায়ো সাকা বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন রেফারি। তবে ফরাসি রক্ষণে চাপ অব্যাহত রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায় তারা।
১৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত ক্রসে কোনো বাধা ছাড়াই উঁচুতে উঠে হেডে বল জালে পাঠান এজরি কনসা। তার গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল অলিসরা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হন। উল্টো ইংল্যান্ডের দ্রুতগতির আক্রমণে বারবার বিপদে পড়ে ফরাসিরা।
৩৫তম মিনিটে ফ্রান্সের ব্যবধান কমানোর সুযোগ এসেছিল। মাইকেল অলিসের পাস থেকে এমবাপ্পের শক্তিশালী শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন।
এরপর ৩৭তম মিনিটে আবারও ফ্রান্সের রক্ষণে আঘাত হানে ইংল্যান্ড। রাশফোর্ডের পাস থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান বুকায়ো সাকা। গোলরক্ষক মাইক ম্যাঁয়াঁকে কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ফরাসি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে আসা বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সাকা। তার জোড়া গোল, রাইস ও কনসার গোলে বিরতির আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ইংল্যান্ড। বিপরীতে এমবাপ্পেদের ফ্রান্সকে দেখা যায় হতাশ ও দিশেহারা অবস্থায়।

স্পোর্টস ডেস্ক