রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচ জিতে মৌসুম শুরু রিয়ালের
দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে দাঁড়ালেন জোসে মরিনিও। মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই শুরুটা দারুণ হলো রিয়াল মাদ্রিদের। কিন্তু প্রথমার্ধেই হোচট খেয়ে পয়েন্ট হারাতে বসেছিল লস ব্লাঙ্কোরা। নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে রিয়ালের হয়ে অভিষেকেই বাজিমাত করলেন তরুণ ফরোয়ার্ড কার্লোস এস্পি। বদলি নেমে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) দিনগত রাত ১টায় প্রতিপক্ষের মাঠে লা লিগার নতুন মৌসুমের অভিযান শুরু করেছে রিয়াল। এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে লস ব্লাঙ্কোরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল। গোল পেতেও সময় লাগেনি তাদের। ম্যাচের নবম মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন জুড বেলিংহ্যাম। ডি-বক্সের অনেক বাইরে বাঁ দিকে একটি ফ্রি কিক পায় রিয়াল। সেখান থেকে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়ান আর্দা গুলার। সেই ক্রসে ভিড়ের মধ্যে লাফিযয়ে উঠে হেডে বল জালে জড়ান বেলিংহ্যাম।
ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিট প্রতিপক্ষের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় এস্পানিওল। ৩০তম মিনিটে সফলও হয় তারা। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো পাস ছয় গজ বক্সের একদম মুখে পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় শট নেন আলেক্স কালাত্রাভা। বল গিয়ে জায়গা করে নেয় জালে
বিরতির আগে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুর্বলতার সুবাদে গোলমুখে হঠাৎ করেই একটা হাফ-চান্স পেয়ে যান ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে তিনি সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। এর ঠিক তিন মিনিট পরই অন্যপ্রান্তে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রবের্তো ফের্নান্দেস। কিন্তু একদম ফাঁকায় বল পেয়েও তিনি ঠিকঠাক হেড করতে না পারায় বড় বিপদের হাত থেকে বেঁচে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আরেকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন বেলিংহ্যাম। এ যাত্রায় তাকে রুখে দিয়ে রিয়ালকে হতাশ করেন এস্পানিওলের গোলরক্ষক। ফিরতি বলে হেড করার চেষ্টায়ও ব্যর্থ হন এমবাপ্পে।
গোল আদায় করতে না পারলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে সারাক্ষণ চাপে রাখছিল জোসে মরিনিওর শিষ্যরা। এর মাঝেই ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে রিয়ালকে আরেকবার হতাশ হতে হয় গোলবারের বাঁধায়। ফেদে ভালভার্দের জোরালো শট গোলপোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।
গোল পেতে মরিয়া মরিনিও ম্যাচের ৮০তম মিনিটে হাতে থাকা শেষ তুরুপের তাসটি ব্যবহার করেন। বেলিংহ্যামকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান কার্লোস এস্পিকে। তিনিই বদলে দেন ম্যাচের ভাগ্য।
মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই এমবাপ্পের ধরে রাখা পজিশন থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান এস্পি। সময়মতো ছুটে গিয়ে বল নিয়ন্ত্রণের ফাঁকেই ক্ষিপ্র গতিতে গোলরক্ষককে এড়িয়ে দুর্দান্ত এক জোরালো শটে বল জালে জড়ান ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেন দলের তিন পয়েন্ট।
গত জুলাইয়ে লেভান্তে থেকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পাড়ি জমানো এস্পি রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মাঠে নেমে মাত্র ১০ মিনিট খেলেই নিজের গোলের খাতা খুললেন। প্রথম ম্যাচেই দলের ত্রাতাও হয়ে গেলেন তিনি।

স্পোর্টস ডেস্ক