তিন ড্রয়ের দিনে রংপুরকে বাঁচাল আকবর, মাহফিজুলের সেঞ্চুরি
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রথম রাউন্ডের শেষ দিনের খেলা ছিল আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)। আগের দিনই ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল বরিশাল আর খুলনার ম্যাচের। শেষদিনেও রোমাঞ্চের কমতি ছিল না কোনো। তবে কোনো ম্যাচেরই ফলাফল আসেনি। তিনটি ম্যাচই শেষ হয়েছে ড্র দিয়ে। প্রাপ্তি বলতে সিলেটের তরুণ ব্যাটার মাহফিজুল ইসলামের সেঞ্চুরি।
মিরপুরে রংপুরের ত্রাতা আকবর আলী
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিন বেশ বিপদের মুখেই পড়েছিল রংপুর। ইনিংসের শুরুতে মাত্র ৬ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান তিন ব্যাটার। এমন অবস্থায় সহজেই ঢাকার জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
তবে দলের দুঃসময়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন রংপুরের অধিনায়ক আকবর আলী। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪২ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল রংপুর তখন একপ্রান্ত আগলে রেখে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৩২ বলে ৬৪ রানের দায়িত্বশীল লড়াকু ইনিংস খেলে দলের পরাজয় ঠেকান তিনি। একমাত্র চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৬৯ বলে ২৭ রান) কিছুটা সঙ্গ দেন তাকে।
শেষ পর্যন্ত রংপুর ১৪৯ রানে অলআউট হলে প্রতিপক্ষকে মোট ২০৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয়। তবে সেই রান টপকে জয়ের চেষ্টা করার জন্য শেষবেলায় মাত্র ৫ ওভারেরও কম সুযোগ পেয়েছিল ঢাকা। ফলে ম্যাচটি ড্রয়ের মাধ্যমেই শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর ১ম ইনিংস : ৩৪০/১০
ঢাকা ১ম ইনিংস : ২৮৪/১০
রংপুর ২য় ইনিংস : ৬২ ওভারে ১৪৯/১০ (আগের দিন ৬/৩) (ইকবাল ২০, হাশিম ১৫, আকবর ৬৪, রিজওয়ান ২৭, আলাউদ্দিন ০, মাহমুদুল ০, মেহেদি ১৩, স্বাধীন ৭; রিপন ১০-৩-২৯-১, আরিফ ১৮-৩-৩৫-৩, এনামুল ৯-৬-১৫-২, সুমন ৭-১-১২-১, তাইবুর ১৩-০-৩৬-২, আমিনুল ২-০-৬-০, মার্শাল ২-০-৯-০, আনিসুল ১-০-৭-০)।
ঢাকা বিভাগ ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ২০৬) ৪.১ ওভারে ৯/০
সিলেটে সেঞ্চুরি হাঁকালেন মাহফিজুল
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটই করার প্রয়োজন পড়েনি স্বাগতিক সিলেটের। ময়মনসিংহের প্রথম ইনিংসের ৩১১ রানের জবাবে সিলেট প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করেছিল ৩২৭ রান।
এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ময়মনসিংহের ব্যাটাররা সংগ্রহ করেন ৩২৭ রান। আর তাদের ইনিংস শেষ হওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই ড্র মেনে নেন দুই দলের অধিনায়করা।
ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন ময়মনসিংহের তরুণ ব্যাটার মাহফিজুল ইসলাম। আগের দিন ৮৬ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার শেষ দিনে নিজের শতক পূর্ণ করেন। দুর্দান্ত খেলে ১৯৭ বলে ঠিক ১০০ রান করে সিলেটের অফ স্পিনার নাঈম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
এছাড়া ময়মনসিংহের পক্ষে আরিফুল ৭২ ও আব্দুল মজিদ ৮৭ রানের দারুণ দুটি ইনিংস খেলেন। সিলেটের সফল বোলার নাঈম আহমেদ ৪০ ওভার বোলিং করে ১১৯ খরচায় শিকার করেন ৫টি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস : ৩১১/১০
সিলেট ১ম ইনিংস : ৩২৭/১০
ময়মনসিংহ ২য় ইনিংস : ১১৭ ওভারে ৩৭২/৬ (আগের দিন ১৪৮/১) (মাহফিজুল ১০০, খালিদ ৫৭, রকিবুল ২, আরিফুল ৭২, মজিদ ৮৭, আল আমিন ৪১, রিজান ২*, ফাহিম ১*; তারেক ১৩-২-৫০-০, নাঈম ৪০-৪-১১৯-৫, নাবিল ৩৪-৩-১০০-০, গালিব ৭-০-২৩-০, তোফায়েল ৯-৪-২০-০, অনিক ১২-৪-৩৮-০, রিহাদ ১-০-১৭-০)।
তিন ইনিংসেই শেষ রাজশাহী-চট্টগ্রমের লড়াই
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে স্বাগতিক চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ম্যাচটিরও নিষ্পত্তি হয়েছে তিন ইনিংসে। চতুর্থ ও শেষ দিনে রাজশাহীর দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংটা ছিল বেশ মলিন। দলের পক্ষে একমাত্র ফিফটি আসে জাতীয় দলের সাবেক তারকা ব্যাটার সাব্বির রহমানের ব্যাট থেকে (৫১ রান)। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২২৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে রাজশাহী।
এর আগে রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল ৩৬৪ রান। জবাবে চট্টগ্রামও দারুণ লড়াই করে। সাদিকুর রহমান ও মাহমুদুল হাসান জয়ের জোড়া সেঞ্চুরির সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৩৯৩ রানের বড় সংগ্রহ পায়। পরে শেষ দিনে দুই দলের সম্মতিতেই ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করা হয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ১ম ইনিংস : ৩৬৪/১০
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস : ৩৯৩/১০
রাজশাহী ২য় ইনিংস : ৮৯ ওভারে ২২৪/৮ (আগের দিন ৪৬/২) (নাঈম ৪৭, প্রিতম ৩৭, সাব্বির ৫১, মেহেরব ২, শাকির ২৭, সানমাজুল ১৮, নিহাদ ১৫*, ওয়ালিদ ১৭*; আশিক ১১-১-৩৫-১, আশরাফুল ৩২-৫-৮৩-৩, ইফরান ৫-১-১১-০, মুরাদ ৩০-৫-৬০-৩, ফরহাদ ৩-০-৯-০, জয় ৫-১-১১-১, শামীম ১-০-৪-০, সাদিকুর ২-০-৯-০)।

স্পোর্টস ডেস্ক