কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ে মুখ খুললেন রোনালদো
উয়েফা নেশন্স লিগে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশেই ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এমনকি তিনিই ছিলেন দলের অধিনায়ক। কিন্তু সবকিছু বদলে যায় দ্বিতীয় ম্যাচে এসে। নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদোকে ওয়ার্মআপ করতে দেখা গেলেও আর মাঠে নামা হয়নি তার। এরপরই দূরত্ব বাড়তে থাকে কোচের সঙ্গে। এক পর্যায়ে ক্যাম্প ছেড়েই চলে যান রোনালদো।
এরপর রোনালদো ভক্তদের বড় একটি প্রশ্ন ছিল- কোচের সঙ্গে ঠিক কি হয়েছিল রোনালদোর? এতদিন এসব নিয়ে মুখ না খুললেও এবার মুখ খুলেছেন রোনালদো। পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। যেখানে উঠে এসেছে কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণ। পরে অবশ্য রোনালদো সতীর্থদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার জন্য। কথা বলেছেন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও।
ঘটনার শুরু বিশ্বকাপের পর। রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন এবং বর্তমান কোচ জর্জে জেসুস সম্পর্কে তার মতামত জানতে চেয়েছিলেন। রোনালদো বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আমাকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন এবং বর্তমান কোচ সম্পর্কে আমার মতামত জানতে চান। আমি বলেছিলাম, তিনিই সঠিক পছন্দ হবেন।’
আগস্টে কোচ তাকে নিজের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানান রোনালদো। সিআরসেভেন বলেন, ‘আগস্টে কোচ আমাকে বলেছিলেন যে তার পরিকল্পনায় আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি প্রথম ও শেষ ম্যাচ খেলব। তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, আমি যেন দলের সঙ্গে অ্যাওয়ে ম্যাচগুলোর সফরে না যাই। কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করি। একজন অধিনায়ক কখনো বাড়িতে বসে থাকে না। সিমাও কুতিনহো এর সাক্ষী ছিলেন।’
নেশন্স লিগে পর্তুগালের দ্বিতীয় ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচ জেসুস বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন, এ ম্যাচে পুরো সময় রোনালদোকে মাঠে নামাবেন না তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে দেখা যাবে তাকে। ম্যাচেও দেখা যায় সেই চিত্র। শুরুর একাদশে ছিলেন না রোনালদো। তিনি জানিয়েছেন, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন ৩০ মিনিট খেলার বিষয়ে কোচের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। কিন্তু ওয়ার্ম আপ করেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারেননি রোনালদো।
রোনালদো বলেন, ‘নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত কিনা। এটি পরিকল্পনার অংশ ছিল না, তবুও আমি হ্যাঁ বলি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আমি ওয়ার্ম আপ করি, কিন্তু আমাকে আর মাঠে নামানো হয়নি। সে তার কথা রাখেনি। ম্যাচের পর সমর্থকদের সঙ্গে দেখা না করাটা আমার ভুল ছিল এবং এর জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।’
এর ৪৮ ঘণ্টা পর কোচ ও সিমাও কুতিনহোর উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে দাবি করেন রোনালদো। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার প্রকৃত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা হয়নি বলে জানান তিনি। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কোচ তার কথা ভঙ্গ করেন বলে জানান রোনালদো।
এ ঘটনার বিবরনে সিআরসেভেন বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা পর, কুতিনহোর উপস্থিতিতে আমরা একমত হই যে, সংবাদ সম্মেলনে সে সত্যিটা বলবে। পরিকল্পনাটি তার ছিল, আমি কখনো খেলার সময় চাইনি এবং আমাকে খেলানো ছাড়াই ওয়ার্ম আপ করানোটা ছিল একটি ভুল। সে আমাকে আলিঙ্গন করতে বলে এবং প্রতিশ্রুতি দেয়। আমি ওই বিষয়গুলো উল্লেখ করা একটি সংক্ষিপ্ত নথিতেও অনুমোদন দিয়েছিলাম।’
বিবৃতিতে রোনালদো আরও জানান, তিনি সরাসরি সভাপতি ও কোচকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তারা তাকে দলে চান কি না। রোনালদো বলেন, ‘সেদিন সকালে আমি সভাপতি ও কোচকে বলেছিলাম-- “আপনারা যদি আমাকে না চান, তাহলে আমাকে বলুন।” দুজনেই বলেছিলেন, তারা আমাকে চান।’
তবে এরপর সংবাদ সম্মেলনে কোচের দেওয়া বক্তব্যে হতাশ হন রোনালদো। একই সঙ্গে এটিকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দ্বিতীয় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। রোনালদো বলেন, ‘কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, তার সঙ্গে যা বলা হলো তার কোনো মিল ছিল না। সেখানে আমি এমন একটি আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুনি, যা আমার প্রাপ্য ছিল না। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কোচ তার কথা রাখেনি।’
প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো কারিগরি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করার কথাও উল্লেখ রোনালদো বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে আমি কখনো কোনো কারিগরি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করিনি। কিন্তু যখন আমার সঙ্গে করা কথা রাখা হয় না, তখন সেখানে আমার থাকার কোনো জায়গা নেই।’
দল ছেড়ে যাওয়ার জন্য সতীর্থদের কাছেও অবশ্য ক্ষমা চেয়েছেন এই পর্তুগিজ তারকা। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার দায় নিজের বলে স্বীকার করেছেন। রোনালদো বলেন, ‘আমি আমার সতীর্থদের কাছে দল ছেড়ে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চাইছি। এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমার নিজের। এফপিএফের উচিত কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে আমাকে শাস্তি দেওয়া, কারণ অধিনায়ক হিসেবে আমার এই আচরণকে আরও গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’

স্পোর্টস ডেস্ক