বিশ্বকাপ ফাইনালের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে এবার মুখ খুললেন মেসি
আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। তবে এই মহাতারকার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতিটা আরও অনেক বেশি রঙিন ও মধুর হতে পারত, যদি ২০২৬ সালের সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে ভাগ্য সহায় হতো। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই সোনালী স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যায়।
পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি ফাইনাল ম্যাচে। বিশেষ করে নকআউট ম্যাচগুলোতে যেভাবে আর্জেন্টিনা একের পর এক ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতছিল, সেই আর্জেন্টিনা যেন হারিয়ে গিয়েছিল। স্পেনের বিপক্ষে একপ্রকার আত্মসমর্পনই করতে দেখা যায় তাদের। এমন ম্যাচের পর নানা ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বাতাসে ভেসে বেড়ায়। কিন্তু এতদিন বিষয়টি নিয়ে কুলুপ এঁটে ছিলেন মেসি। তবে অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানানোর পর সেই ফাইনালে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ভোরে আর্জেন্টিনার মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলতে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। তার দল বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। শেষ ম্যাচে মেসি নিজে একটি গোল করেছেন আবার সতীর্থদের দিয়েও করিয়েছেন একটি গোল। ম্যাচ শেষে বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে কথা বলেন মেসি।
আজেন্টাইন অধিনায়ক জানিয়েছেন, শেষ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য তিনি এবং তার সতীর্থরা মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলকে ঘিরে বাইরের মানুষের বিভিন্ন সমালোচনা এবং নানা চক্রান্তমূলক আক্রমণের বিরুদ্ধে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য সতীর্থদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
মেসি বলেন, ‘আমি তো চিরকাল এই দলের হয়েই মাঠে খেলতে থাকতে চাইতাম। তবে এখন মনে হচ্ছে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর জন্য এটাই মোক্ষম ও সঠিক সময়। সত্যি বলতে, শেষ বিশ্বকাপটা আমার ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে ভীষণ কঠিন একটা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। আমরা চেয়েছিলাম আরও একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে। শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছিলাম। তবে মানুষ বাইরে যেভাবে নানা কথা বলছে বা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াচ্ছে, বাস্তবে তেমন অস্বাভাবিক বা বাজে কিছুই ঘটেনি।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ফুটবলাররা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান মেসি। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য সর্বস্ব দিয়ে লড়েছিলাম। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচটি আমাদের শারীরিক এবং মানসিক—উভয় দিক থেকেই ভীষণভাবে ক্লান্ত ও নিঃশেষ করে দিয়েছিল। তবে আসল সত্য হলো, আমরা অনেক কষ্টে সেই ধকল কাটিয়ে উঠেছিলাম।’
এরপর জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিনের পথচলা ও লড়াইয়ের গল্প বলতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘এই দেশের জার্সি গায়ে চড়িয়ে আমরা ঠিক যেভাবে আজীবন লড়াই করে এসেছি, শেষ পর্যন্ত সেভাবেই লড়ে গেছি। অতীতে যেসব সতীর্থের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত ট্রফির জন্য লড়াই করেছি, তাদের প্রত্যেককে আমি স্মরণ করছি। শুধু বর্তমানের এই দল নয়, অতীতে যখন আমরা শিরোপা জিতেছি কিংবা কাছাকাছি গিয়েও পারিনি, সেই প্রতিটি মুহূর্তের সতীর্থদের কথাই বলছি।
‘আমরা তো আগেও বহুবার লড়াই করেছি, যদিও দুর্ভাগ্যের কারণে সেবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। আমরা ট্রফির খুব কাছে গিয়েও হাতছাড়া করেছি। তবে আমার পাশে থাকা প্রতিটি সতীর্থ এই পবিত্র জার্সির জন্য নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করেছে, এ নিয়ে কারো মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকা উচিত নয়।’- যোগ করেন মেসি।
ফুটবলের এই বরপুত্র বলেন, ‘ইতিহাসে বহুবার এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, আমরা যখন সবাই মিলে একসঙ্গে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে থাকি, তখন যেকোনো শক্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠি। যেকোনো কঠিন বাধা কিংবা বিপদ পেরিয়ে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা আমাদের দলের রয়েছে।’
আর্জেন্টিনা দলের সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মেসি বলেন, ‘সামনে নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কারণ, এতদিন ধরে আমরা অবিশ্বাস্য সব সাফল্য অর্জন করেছি, যা সাধারণ কোনো ব্যাপার নয়। তাই সেই কঠিন সময়ে আমাদের একে অপরের আরও বেশি করে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং দলের সবাইকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।’

স্পোর্টস ডেস্ক