মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গে পুনর্মিলন হবে নেইমারের?
একটা সময় শুধু বার্সেলোনা ফ্যানদেরই নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বকেই বুদ করে রাখতেন বার্সেলোনার বিখ্যাত আক্রমণ ত্রয়ী ‘এমএসএন’। এখনো লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং নেইমারের সেই জুটি আবারও ফেরার স্বপ্ন দেখেন অনেক সমর্থক। গুঞ্জন চলছে, সমর্থকদের সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হতে যাচ্ছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে জুটি বাঁধতে পারেন তারা। মেসি, সুয়ারেজের আগে থেকেই নাম লেখানো ক্লাবটিতে এবার নাম লেখাতে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রও।
তবে এই স্বপ্নের পুনর্মিলন বা ত্রয়ীর এই একত্রীকরণ মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সামগ্রিক প্রতিযোগিতার জন্য আদৌ কতটা লাভজনক ও ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক তারকা ও গোলকিপার শাকা হিসলপ।
খবর অনুযায়ী, বর্তমান ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরেই শেষ হতে চলেছে। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার পরবর্তী ফুটবল গন্তব্য ঠিক কোথায় হতে পারে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে ঘন ঘন চোট তার ক্যারিয়ারের বড় এক অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া ২০১৭ সালে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোর বিশাল ট্রান্সফারে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি আর আগের মতো নিজের সেই বিধ্বংসী ছন্দে আছেন কিনা, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মাঝেও বেশ বিতর্ক রয়েছে।
এদিকে বিশ্বজয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ আছেন। আমেরিকার এই ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি তার পুরোনো ঘনিষ্ট বন্ধু লুইস সুয়ারেজসহ বার্সেলোনার একাধিক সাবেক সতীর্থকে পাশে পেয়েছেন।
ফলে গুঞ্জন সত্যি করে যদি নেইমারকেও শেষ পর্যন্ত মায়ামির ক্লাবে ভেড়ানো সম্ভব হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই ক্লাবটির বাণিজ্যিক আকর্ষণ এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেড়ে যাবে—এ নিয়ে কারও মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
তবে সাবেক গোলকিপার হিসলপের মতে, কেবল আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি বা বাহ্যিক প্রচারের কথা মাথায় রেখে নেইমারকে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্তটি এমএলএস বা ইন্টার মায়ামির জন্য খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
এ বিষয়ে নিজের শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে নেইমার ও সুয়ারেজ দুজনই তাদের ক্যারিয়ারের সেরা সময় পেছনে ফেলে এসেছেন। ঘন ঘন চোটের কারণে নেইমার এখন আর তার পুরনো সেই গতি ও ধার নিয়ে খেলতে পারেন না। অন্যদিকে, ৩৯ বছর বয়সী সুয়ারেজও বয়সের ভারে বেশ কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়েছেন।’
ফলে এই তিন মহাতারক্ষাকে মাঠে একসঙ্গে দেখার শৈল্পিক রোমাঞ্চ ও আবেগ যতই তীব্র হোক না কেন, তাদের পেছনে বিশাল অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগের যৌক্তিকতা কতটুকু, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এই বিশ্লেষক।
হিসলপ বলেন, ‘প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী সময়ের নির্মম প্রভাব সবার ওপরই কমবেশি পড়ে। যদিও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির মতো বিরল প্রতিভার ফুটবলাররা বারবার বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের অনন্য প্রমাণ করেছেন, তবে সেটি ব্যতিক্রম মাত্র, সবার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না।’
আর সে কারণেই এমএলএসের বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে নেইমারের এই সম্ভাব্য দলবদল বা চুক্তিকে তিনি শতভাগ লাভজনক বলে মনে করছেন না।

স্পোর্টস ডেস্ক