অবশেষে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ
বাংলাদেশের একটি উইকেটের অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছিল না। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে হতাশ করে যাচ্ছিলেন দুই আফগান ব্যাটার আব্দুল মালিক আর রহমত শাহ। ক্রমেই যেন ম্যাচ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। অবশেষে অপেক্ষা ফুরোলো টাইগারদের। জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) আবুধবাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টেস্টের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৯ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান তুলেছে আফগানিস্তান। এখনো তারা পিছিয়ে ২০৩ রানে। ৮৯ বল খেলে ৩৯ রানে অপরাজিত রহমত শাহ আর ৮ বলে ৪ রানে ইকরাম আলিখিল।
তৃতীয় উইকেটে জুটি বেধে বাংলাদেশি বোলারদের পরীক্ষা নিয়ে যাচ্ছিলেন আব্দুল মালিক আর রহমত শাহ। এখন আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটিটি গড়েছিলেন তারা। অবশেষে দেড়শ বল খেলা সেই জুটি ভাঙলেন এবাদত হোসেন।
ইনিংসের ৪৬তম ওভারে হাফসেঞ্চুরি আব্দুল মালিকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি আনেন এবাদত। ১২০ বলে ৬২ রান করে আব্দুল মালিক ফিরলে ভাঙে ৭০ রানের জুটি। এরপর নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে আসা হাশমতুল্লাহ শাহিদি টিকতে পেরেছেন মোটে ২ বল। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে রানের খাতা খোলার আগেই তাকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ।
দ্রুত দুই উইকেট তুলে নিয়ে নিজেদের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কিছুটা কাটিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এখনো গলার কাটা হয়ে আছেন রহমত শাহ। হাফসেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এর আগেই তাকে থামানোর পরিকল্পনা নিশ্চয়ই করবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়িয়ে চা-বিরতিতে আফগানিস্তান
প্রথম দুই উইকেট বেশ তাড়াতাড়িই তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে অপেক্ষা বাড়ছে তৃতীয় উইকেটের জন্য। জুটি গড়ে বাংলাদেশের হতাশা বাড়াচ্ছেন দুই আফগান ব্যাটার আব্দুল মালিক আর রহমত শাহ। দেখেশুনে খেলছেন এই দুই ব্যাটার। কোনো সুযোগ দিচ্ছেন না টাইগার বোলারদের। এমন অবস্থায় চা-বিরতিতে গেছে দুই দল।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইতোমধ্যে পঞ্চাশ পেরিয়ে শতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন আব্দুল মালিক আর রহমত শাহ। ইতোমধ্যে ১৪৬ বল মোকাবিলা করেছেন তারা। তাদের জুটি থেকে এসেছে অপরাজিত ৬৭ রান। বিরতি থেকে ফিরে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে দ্রুতই এই জুটি ভাঙা।
বাংলাদেশের হতাশা বাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান
পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই প্রথম দুই জুটি ভেঙেছিলেন বাংলাদেশি বোলাররা। তবে এবার আর পারলেন না তারা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেছে আফগানিস্তান। দলীয় রানও ছাড়িয়েছে ১০০। এখন অনেকটা সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের হতাশা বাড়াচ্ছেন স্বাগতিক ব্যাটাররা।
প্রথম উইকেট জুটিতে ৩০ আর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩২ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। এরপর আঘাত হেনেছিলেন হাসান মাহমুদ আর এবাদত হোসেন। তবে এরপর আর কার্যকর হতে পারছেন তারাও। তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রায় অর্ধশত রান তুলে ফেলেছেন ওপেনার আব্দুল মালিক আর চার নম্বরে নামা রহমত শাহ।
এরই মধ্যে একপ্রান্ত আগলে রেখে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ওপেনার আব্দুল মালিক। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম হাফসেঞ্চুরি।
এবার আফগান শিবিরে এবাদতের আঘাত
মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে কৌশল বদলান বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। একপ্রান্ত থেকে আর অন্যপ্রান্ত থেকে পেস আক্রমণে আফগান ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। সেটার সুফলও এসেছে দ্রুতই। আফগান শিবিরে দ্বিতীয়বার আঘাত হেনেছে বাংলাদেশ।
ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল ফেরার পর দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন আব্দুল মালিক আর শাহিদুল্লাহ কামাল। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৬২ বল খেলে ৩৪ রান তুলে ফেলেছিলেন তারা। মধাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে সেই জুটি ভাঙলেন এবাদত হোসেন। ৪৪ বলে ২০ রান করা শাহিদুল্লাহ কামালকে ফেরান তিনি।
একপ্রান্ত আগলে রাখা ওপেনার আব্দুল মালিককে সঙ্গ দিতে এসেছেন রহমত শাহ।
হাসানের আঘাত নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে আফগানিস্তান
ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান ব্যাটারদের চেপে ধরছিলেন হাসান মাহমুদ। ইনিংসের নবম ওভারে সেটার সুফলও পেয়েছিলেন। ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটলের ব্যাটে বল লেগে জমা হয় উইকেটের পেছনে লিটন দাসের গ্লাভসে। তবে বাংলাদেশের জোড়ালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। বাংলাদেশও রিভিউ নেয়নি। পরে রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট ছুঁয়ে গ্লাভসে জমা হয়েছিল।
তবে সেই আফসোস বেশি সময় করতে হয়নি বাংলাদেশকে। নিজের পরের ওভারে এসেই উইকেট তুলে হাসান। ফেরান সেই অটলকেই। ইনিংসের ১১তম ওভারে হাসানের বলে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অটল। ফেরার আগে ৩১ বলে ১৭ রান করেন আফগান ওপেনার।
এরপরই মধাহ্ন বিরতিতে যায় দুই দল। এর আগে ১৪ ওভার শেষে এক উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক আফগানিস্তান।
নাঈম-তাইজুলের লড়াইয়ের পরও ৩৫০ রানের আগেই থামল বাংলাদেশ
৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ৩৩ বলে ১১ রানে অপরাজিত থেকে নাঈম হাসান আর ১০ বলে ৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠে নেমেছিলেন তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় দিনে তাদের জুটি থেকে এসেছে ৩৩ বলে ১৮ রান। দিনের ষষ্ঠ ওভারে এসে তাইজুল ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। ফেরার আগে ২০ বল থেকে ৯ রান করেন তিনি।
তাইজুল ফিরলে নাঈমকে সঙ্গ দিতে নামেন এবাদত হোসেন। তবে বেশি সময় উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি এবাদত। ৭ বল খেলে কোনো রান না করেই ফিরে যান তিনি। এতে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৬৭ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন নাঈম।

স্পোর্টস ডেস্ক