এমবাপ্পের ব্যালন ডি’অর হার নিয়ে যা বললেন পাপিন
ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে সাফল্য পেতে শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই যথেষ্ট নয়, খেলোয়াড়ের ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমে তার বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমনটাই মনে করেন ১৯৯১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরাসি কিংবদন্তি জাঁ-পিয়েরে পাপিন। তার মতে, পুরস্কার ঘোষণার আগে কিলিয়ান এমবাপের একের পর এক প্রকাশ্য মন্তব্য ও সাক্ষাৎকারই শেষ পর্যন্ত তার জয়ের সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোটাভুটিতে হ্যারি কেইনের পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন এমবাপে। তৃতীয় হন লামিন ইয়ামাল। ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থানে পৌঁছালেও কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারটি জিততে না পারার পেছনে এমবাপের মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে তাঁর মিডিয়া কৌশলকেই বেশি দায়ী করছেন পাপিন।
আরএমসি স্পোর্টের ‘রোথেন সেঁফ্লাম’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাপিন বলেন, “এমবাপের বারবার সংবাদমাধ্যমে উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিয়েছে।” তার মতে, মৌসুমজুড়ে নিজের যোগ্যতা নিয়ে এমবাপের প্রকাশ্য বক্তব্য পুরস্কারের দৌড়ে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বদলে উল্টো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এমবাপের যোগাযোগের কৌশল নিয়ে আরও স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সাবেক এই ফরাসি স্ট্রাইকার। তিনি বলেন, “এমবাপের যোগাযোগের কৌশলটি তার অনেক বড় ক্ষতি করেছে। এক দিক থেকে এটি তার ব্যক্তিত্বকেই ফুটিয়ে তোলে। তবে তাঁর গুণাবলী এবং তিনি যে ক্লাবে খেলেন, সেই হিসেবে এটি সত্যিই দুঃখজনক।”
এ সময় এমবাপের সঙ্গে পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর তুলনাও টানেন পাপিন। সতীর্থদের সঙ্গে আচরণ এবং দলের মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রাখার প্রবণতায় দুজনের মধ্যে মিল খুঁজে পান তিনি। পাপিনের ভাষায়, “এমবাপে আমাকে কিছুটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কথা মনে করিয়ে দেয়। বাকি সবাইকে যেন তাঁর সেবায় কাজ করতে হতো।”
তবে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এমবাপের ধারাবাহিক উপস্থিতি তার ব্যক্তিগত সাফল্যেরই প্রমাণ। ২০১৭ সালে সপ্তম, ২০১৮ সালে চতুর্থ, ২০১৯ সালে ষষ্ঠ, ২০২১ সালে নবম, ২০২২ সালে ষষ্ঠ, ২০২৩ সালে তৃতীয়, ২০২৪ সালে ষষ্ঠ এবং ২০২৫ সালে সপ্তম স্থানে ছিলেন তিনি। ২০২৬ সালে দ্বিতীয় হয়ে নিজের ক্যারিয়ারসেরা অবস্থান অর্জন করেছেন ফরাসি এই তারকা।
এমবাপের গোল করার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও পাপিনের বক্তব্য, ব্যক্তিগত পুরস্কারের লড়াইয়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জনসমক্ষে নিজের ভাবমূর্তি ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই জায়গাতেই এমবাপের কৌশল তাঁর বিপক্ষে গেছে বলে মনে করেন সাবেক এই ব্যালন ডি’অরজয়ী।

স্পোর্টস ডেস্ক