সিলেট টেস্ট
প্রথম সেশনের শেষটা ভালো করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
সকালের শুরুতে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশি পেসাররা। সিলেটের মেঘলা আবহাওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই বোলাররা পেয়েছেন বাউন্স ও সুইং। তাতেই মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে প্রথম সেশনের শেষ ভাগে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে সফরকারীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ম্যাচের শুরুতে টস ভাগ্য সহায় হয়নি স্বাগতিকদের। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ক্যারিবীয়রা। শুরুতে তাসকিনের উইকেট তারপর হাসানের। এতে অনেক টা ব্যাকফুটে চলে গেলেও, চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন আমির জাঙ্গু ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে সামাল দিয়েছে প্রাথমিক ধাক্কা। লাঞ্চের আগে এই জুটি থেকে এসেছে ৫৯ রান।
সকালের সেশনে দীর্ঘ সময় দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদকে দিয়ে বোলিং করিয়েছে বাংলাদেশ। তাসকিন একাই নিয়েছেন দুটি উইকেট। তবে টানা বোলিংয়ে দুই পেসারের ওপর ক্লান্তির ছাপও দেখা গেছে। পরে আক্রমণে আনা হয় মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামকে । তারা দুইজন মিলে ১০ ওভার বোলিং করেছেন, তবে কোনো উইকেট পাননি।
প্রথম সেশনে শুরুটা বাংলাদেশের হলেও শেষটা নিজেদের করে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লাঞ্চ বিরতিতে তাদের সংগ্রহ ২৬ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৬ রান। ক্রিজে আছেন আমির জাঙ্গু ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম।
তাসকিনের জোড়া আঘাত সাথে হাসানের জাদু, শুরুতেই চাপে উইন্ডিজ
ইনিংসের শুরুতেই উইকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। হাসানের করা প্রথম ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার জশুয়া ডি সিলভা স্লিপে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সাদমান ইসলাম সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন। তালুবন্দি করতে পারেননি সহজ ক্যাচটি। ফলে প্রথম ওভারেই উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েও হতাশ হতে হয় হাসানকে।
তবে ক্যাচ মিসের হতাশা দ্রুতই ভুলিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। পঞ্চম ওভারেই বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন এই ডানহাতি পেসার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় রান যখন ১৪, তখন ব্রেন্ডন কিংকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি। ফুল লেংথের বলটি ভেতরের দিকে সুইং করে পিচে পড়ার পরও মুভমেন্ট ধরে রাখে। মিডউইকেটের দিকে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন কিং, কিন্তু বলের গতিপথ বুঝে উঠতে পারেননি। পুরোপুরি পরাস্ত হন এই ব্যাটার। বল সরাসরি আঘাত হানে স্টাম্পে, ছত্রখান হয়ে যায় বেল। ৯ রান করেই ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।
এরপর নিজের দ্বিতীয় শিকারও তুলে নেন তাসকিন। এবার তার শিকার জশুয়া ডি সিলভা। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশের এই পেসার। শুরুতে সাদমানের হাতছাড়া করা ক্যাচের পর শেষ পর্যন্ত তাসকিনের বলেই বিদায় নিতে হয় ডি সিলভাকে।
নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথে ধারাবাহিকভাবে বল করে যাচ্ছিলেন তাসকিন। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর তৈরি করা চাপেরই পুরস্কার হিসেবে তুলে নেন নিজের দ্বিতীয় উইকেট। তাঁর আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং লাইনআপ।
তাসকিনের পর এবার নিজের জাদু দেখান হাসান মাহমুদ। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তুলে নেন আরেকটি উইকেট। দুই বল আগেও একই লেংথের একটি বল ছেড়ে দিয়েছিলেন হজ। সেবার রক্ষা পেলেও এবার আর পারেননি। অফ স্টাম্পের বাইরে ব্যাক অব লেংথে বলটি করেন হাসান। পিচে পড়ে দুর্দান্তভাবে ভেতরের দিকে ঢুকে যায় সেটি। ব্যাট তুলে বল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন হজ। কিন্তু দ্রুত স্কিড করে আসা বলটি ব্যাটের ফাঁক গলে সরাসরি আঘাত হানে মিডল স্টাম্পে। অসাধারণ ডেলিভারিতে ব্যাটারকে বোকা বানিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন হাসান।
বাংলাদেশের একাদশ
তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।

স্পোর্টস ডেস্ক