লাল কার্ডের রেকর্ডে সবাইকে ছাড়িয়ে গেল ব্রাজিল
ফুটবল মাঠে লাল কার্ড মানেই উত্তেজনা, সংঘর্ষ আর শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা। তবে কখনো কখনো এসব ঘটনা এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে এক ম্যাচেই লাল কার্ডের বন্যা বয়ে যায়। ব্রাজিলের ৫৩ লাল কার্ডের ঘটনা ছাড়াও ফুটবল ইতিহাসে এমন আরও কিছু নজির রয়েছে, যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।
৪ নভেম্বর (বুধবার) ব্রাজিলের মিনাস জেরাইসে অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল ম্যাচে ঘটেছে নজিরবিহীন এক ঘটনা। একটি ম্যাচে মোট ৫৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন রেফারি। গত ১ নভেম্বর (রোববার) উবেরলান্দিয়া ও মামোরের মধ্যকার রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উত্তেজনার সূত্রপাত। উবেরলান্দিয়ার এক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোর পর দলটির কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠে প্রবেশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা।
পরে খেলা শুরু হলে ইনজুরি সময়ের নবম মিনিটে গোল করে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মামোরে। তবে গোল উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, মামোরের খেলোয়াড় দাভি প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কটূক্তি করেন। এর পরপরই দুই দলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে একের পর এক লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হন ম্যাচ রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রসগিচ মোদেস্তো।
ম্যাচটিতে মোট ৪৩ জন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের ৮ সদস্যকে লাল কার্ড দেখানো হয়। পাশাপাশি উবেরলান্দিয়ার পরিচালনা পর্ষদের আরও দুই সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়। সব মিলিয়ে লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩টি।
ম্যাচ শেষে রেফারি দ্রসগিচ মোদেস্তো তার জমা দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে খেলোয়াড়দের লাল কার্ড দেখানো এবং ম্যাচ শেষ করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও সম্ভব হচ্ছিল না।
এ প্রসঙ্গে দ্রসগিচ মোদেস্তো আরও জানান, “পুরো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণে আমি ম্যাচটি শেষ ঘোষণা করি। হুমকির ঘটনায় পুলিশের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।”
এছাড়া ম্যাচ শেষে মামোরের খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুমেরও ক্ষতিসাধন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বুধবার উবেরলান্দিয়া জানায়, সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে তারা ওয়াকওভার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্লাবটির দাবি, ‘ফেয়ার প্লে’র স্বার্থেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, মামোরের হাতে মাঠে একটি দল নামানোর মতো পর্যাপ্ত যোগ্য খেলোয়াড় ছিল না।
উবেরলান্দিয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে কোনো দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ ছাড়াই টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে মামোরে।
এর আগে একটি ফুটবল ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ছিল ৩৬টি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের আতলেতিকো ক্লায়েপোলে ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের মধ্যকার ম্যাচে এই ঘটনা ঘটেছিল। এবার ৫৩টি লাল কার্ড দেখানোর মধ্য দিয়ে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল ব্রাজিলের এই ম্যাচ।

স্পোর্টস ডেস্ক