ইভিএমের ফল পরিবর্তন, তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে ইসি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) জয়লাভ করলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জুবায়েদ মো. আদেলকে জয়ী ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর অবশ্য আবদুল বাতেন ওই ওয়ার্ডের ফল স্থগিত করেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেনকে ফল স্থগিতের কারণ জানাতে বলেছে কমিশন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, “এ ঘটনা আমরাও শুনেছি। ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কীভাবে এই ফল পরিবর্তন করা হয়েছে, সে ব্যাপারে জানতে চায় ফুল কমিশন। আমি সন্ধ্যায় আবদুল বাতেনকে দেওয়া এক চিঠিতে লিখে দিয়েছি, ‘কেন ফল স্থগিত করা হয়েছে, তা আমি জানতে চাই। বিষয়টি তদন্ত করে কমিশনকে জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।’’’
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা কেবল আমাদের ফল স্থগিতের বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু এর কোনো প্রতিবেদন দেননি। আমরা দালিলিক প্রমাণাদিসহ প্রতিবেদন চেয়েছি। এটা তাঁকে দিতে হবে। তারপর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।’
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর ২৭ ভোটে জয়লাভ করেন। ২৭ ভোটে জয়লাভ করার ঘোষণাটি আসে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত ফলাফলে। কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে টিফিন ক্যারিয়ার মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী জুবায়েদ মো. আদেলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে শেখ মোহাম্মদ আলমগীর এনটিভি অনলাইনকে বলেন, “কেন্দ্র থেকে প্রথমে আমাকে ২৭ ভোটে জয়ী করে ফল ঘোষণা করা হয়। আমিসহ আমার কর্মীরা মহাখুশি। খুশিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফল আনতে গিয়ে শুনলাম আমি ফেল করেছি। তখন তো আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে বললাম আগের ঘোষিত ফলাফলের কথা। কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, ‘কোনো প্রমাণ আছে কাছে?’’’
শেখ মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আমি চিন্তায় পড়ে গেছি। কারণ আমার কাছে কোনো প্রমাণ ছিল না। পরে যে কেন্দ্রের ফলাফলে ঝামেলা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সেই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি আমাকে একটি কাগজ দেন। সেই কাগজে আমার প্রাপ্ত ফলাফল লেখা ছিল। সেই কাগজ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেখালে তিনি ফলাফল স্থগিতের ঘোষণা দেন।’
আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বলেন, ‘এই ফলাফল টাকা খেয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন পদ্ধতিতে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক