‘এক ধর্ষককে দেখতে এত ভিড়’
রাজধানীর কারওয়ানবাজারের বিএসইসি ভবনের নিচে দুপুরের আগে থেকেই সংবাদকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। সবার ক্যামেরা তাক করা রাস্তার দিকে। কারণ, ‘সিরিয়াল র্যাপিস্ট’ মজনুকে গাড়িতে করে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আনা হচ্ছে।
দুপুর সাড়ে ১২টা। অন্তত ১০টা টেলিভিশনের ক্যামেরা তখন তাক করা রাস্তার দিকে। লাইভ সম্প্রচার করা হচ্ছে রাস্তার ওপরই। সাংবাদিকদের এই দৃশ্য দেখে ততক্ষণে শত শত মানুষ ভিড় করেছে রাস্তায়। সড়কের ধারে মানুষ আর মানুষ। একটা সময় যখন রাস্তায় মানুষ ধরছিল না তখন বিএসইসি ভবনের নিচে অবস্থান নেয় উৎসুক জনসাধারণ ও সংবাদকর্মীরা। এ ছাড়া ভবনের অনেক মানুষ নিচে গিয়ে দাঁড়ায়।
সময় যত গড়ায় তত বেশি মানুষ বাড়তে থাকে। ১২টা ৫০ মিনিটে ‘সিরিয়াল র্যাপিস্ট’ মজনুকে নিয়ে ভবনের নিচে গাড়ি থেকে নামে র্যাব। গাড়ি থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যকর্মীরা ক্যামেরা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুধু গণমাধ্যমকর্মী নয়, ছিল অনেক ইউটিউবারও।
দুপুর ১টা। গাড়ি থেকে অভিযুক্ত মজনুকে নামানোর পরও তাকে ভবনের ভেতরে ঢোকাতে পারছিলেন না র্যাব সদস্যরা। কারণ, সংবাদকর্মী ও মানুষ এত বেশি ছিল যে, তাদের সরানো যাচ্ছিল না। পরে একটা সময় র্যাব সদস্যরা বাধ্য হয়ে ঠেলতে ঠেলতে মজনুকে ভেতরে ঢোকান। তখন সাইদুর নামের এক উৎসুক দর্শক বলে উঠেন, ‘এক ধর্ষককে দেখতে এত লোক!’
পরে মজনুকে নিয়ে ১টা ৫ মিনিটে বিএসইসি ভবনের দশম তলার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে উঠেন র্যাব সদস্যরা। ১টা ১৫ মিনিট থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা মিডিয়া সেন্টারের সামনে ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত আসামির ছবি নিতে। মিডিয়া সেন্টারের সামনে শতাধিক ক্যামেরা তাক করানো।
ঠিক ১টা ৪৫ মিনিটে মিডিয়া সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে নিয়ে আসা হয় মজনুকে। কিন্তু হাজির হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মজনুকে আবার কক্ষের ভেতরে নিয়ে যেতে বাধ্য হন র্যাব সদস্যরা। কারণ, মজনুকে আনার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যামেরা তাক করা সংবাদকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন। সামাল দিতে না পেরে মজনুকে ভেতরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় র্যাব।
দীর্ঘদিন ধরে অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকতা করেন এমন কয়েকজন বলেন, বিফ্রিংয়ের সময় মিডিয়ার অতি আগ্রহ ও উৎসুক সাধারণ মানুষের এত ভিড় কয়েক বছরে দেখা যায়নি।
সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন বলেন, ‘এত বেশি সাংবাদিক আসার কারণ হচ্ছে, পাবলিক সেন্টিমেন্ট। এই ব্যাপারে পাবলিকের আগ্রহ আছে বলে মিডিয়াও বেশি বেশি। এটাকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রবল ঘৃণা ছোড়াও বলতে পারেন।’
সাংবাদিক বাতেন বিপ্লব বলেন, ‘রাস্তা থেকে শুরু করে পুরো দৃশ্য দেখে আমার মনে হয়েছে যেন এক ধর্ষককে সবাই তিরষ্কার জানাতে এসেছেন।’
এ ব্যাপারে র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘আমি জীবনে কখনো র্যাবের ব্রিফিংয়ে এত মানুষ দেখিনি। তবে সবচেয়ে ভালো লাগছে শেষ পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরে।’

মাসুদ রায়হান পলাশ