কাল থেকে মুসল্লিদের জন্য মসজিদ খোলা
শর্তসাপেক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব মসজিদ খুলে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আজ বুধবার জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজ থেকে দেশের মসজিদগুলো খুলে দেওয়া হবে। তবে মসজিদে জামাতের ক্ষেত্রে শর্ত দুজন মুসল্লির মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এ ছাড়া দুই কাতারের পর এক কাতারের জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। শর্ত সাপেক্ষে পাঁচজন ইতেকাফের জন্য মসজিদে অবস্থান করতে পারবে।
শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-
১. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর পুরো মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে
২. মসজিদে প্রবেশের আগে স্যানিটাইজার বা হাত ধোঁয়ার সাবান রাখতে হবে। এবং মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে।
৩. অজু বাসা থেকে করে আসতে হবে; সুন্নাত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিনফুট পর পর দাঁড়াতে হবে।
৫. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।
৬. শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবে না।
৭. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকরে মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না
৮. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
৯. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।
উল্লেখিত শর্ত পালন করে মসজিদে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ পাঁচজন ইতেকাফের জন্য অবস্থান করতে পারবেন।
নামাজ শেষে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করার জন্য খতিব, ইমামগণকে অনুরোধ করা হয়েছে। মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি এ বিষয়গুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবে।
এসব শর্ত লংঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিষয়টি তদারকি করবে।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়, স্টাফ ছাড়া অর্থাৎ খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেমরা ছাড়া কেউ মসজিদে তারাবি নামাজ আদায় করতে পারবে না। ঘরেই নামাজ আদায় করতে হবে।
তার আগে ৬ এপ্রিল করোনায় সংক্রমিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরেই সব নামাজ আদায় করার নির্দেশনা দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে পাঁচটি দফা দেওয়া হয়। এগুলো হলো- করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম ব্যতীত অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় এবং জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয। মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে সম্মানিত খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে অনধিক পাঁচজন ও জুমার নামাজে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। জনস্বার্থে বাইরের মুসল্লি মসজিদের ভেতরে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও ধর্মীয় উপাসনালয়ের পরিবর্তে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করতে হবে। এতদিন ওই নির্দেশনাটিই বলবত ছিল। তারাবির জন্যও একই নির্দেশনা মানা হচ্ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক