ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে চুরি-ছিনতাইয়ের মামলার আবেদন নুরের
মোবাইল ছিনতাই ও টাকা চুরি করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরু।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ধ্যায় এ আবেদন করেন ভিপি নুর। বিষয়টি এনটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান।
আবুল হাসান বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা করে একটি এজাহারের কপি শাহবাগ থানায় নিয়ে আসেন ঢাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। ওই কপিতে চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি।’
ওসি আরো বলেন, ‘আজকের অভিযোগটির ভিত্তিতে নতুন মামলা গ্রহণ করা হচ্ছে না। গতকাল রাতে এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলাটির সঙ্গে এই আবেদনটি সংযুক্ত করার জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।’
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ঢাবি ছাত্রলীগসহ ছাত্রলীগের অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী হামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন। সে সময় তাঁরা আমাদের ২০টি মোবাইল ছিনতাই করে এবং আমাদের নেতাকর্মীদের মানিব্যাগ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
গত রোববার দুপুরে লাইট বন্ধ করে রড, লাঠিসোটা নিয়ে ডাকসু ভবনের ভিতরে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। এতে ভিপি নুরসহ তাঁর সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্তত ২০ জনের মতো আহত হন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন এবং ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের সমর্থক শতাধিক নেতাকর্মী রড, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুপুরে এই হামলা চালায়।
এই ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আট নেতার নাম উল্লেখ পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এরই মধ্যে পুলিশ এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, দপ্তর সম্পাদক মেহেদি হাসান শান্ত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত তূর্যকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সনেট মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তুর্য, সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি মারিয়াম জাহান খান, ঢাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ তুলান, এ এফ রহমান হল সংসদের ভিপি আব্দুর আলীম খান, বিজয় একাত্তর হল সংসদের এজিএস আবু ইউনুস, ডাকসুর সদস্য রাকিবুল হাসান ঐতিহ্য ও মাহমুদুর হাসান।
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, ঢাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রবিউল হাসান রানা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শিক্ষাবিষয়ক উপ-সম্পাদক নিয়ামত উল্লাহ তপন, জিয়া হল সংসদের জিএস হাসিবুল হাসান শান্ত, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক সিফাতুজ্জামান খান, মহসীন হল সংসদের জিএস মিজানুর রহমান মিজান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম, এ এফ রহমান হল সংসদের জিএস আব্দুর রহিম সরকার, এ এফ রহমান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক তানজিল ইমরান তালাশ, ঢাবি ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, জিয়া হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বিন সাত্ত্বার, ইবনুল হাসান উজ্জ্বল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক খাজা খায়ের সুজন।
এস এম হল ছাত্রলীগের খান মিলন হোসেন নীরব, কবি জসীমউদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমেদ, ঢাবি ছাত্রলীগের গণশিক্ষা সম্পাদক হৃদয় হাসান সাহাগ, চারুকলা ছাত্রলীগের উজ্জ্বল, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা রিপা, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের (জামাল গ্রুপ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম মাহবুব, বঙ্গবন্ধু হল সংসদের জিএস মেহেদী হাসান শান্ত, ঢাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি জীবন রায়, আরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান নিবিড়।

নিজস্ব প্রতিবেদক