ঢাকার বায়ুদুষণ অসহনীয় পর্যায়ে : পরিবেশমন্ত্রী
ঢাকা মহানগরীতে বায়ু দূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি এজন্য তিনটি কারণে কথা বলেছেন।
এগুলো হচ্ছে- মোটরযানের কালো ধোঁয়া, যথেচ্ছ নির্মাণকাজ ও শহরের আশপাশের ইটভাটা এবং কল-কারখানার কালো ধোঁয়া। মন্ত্রী বলেন, এগুলোকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে অনুষ্ঠিত ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে সচিবালয়ের চারপাশ অর্থাৎ জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, কদম ফোয়ারা, শিক্ষাভবন মোড় হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাকে নীরব জোন বা শব্দবিহীন এলাকা হিসেবে কার্যকর করা হবে বলে এদিন জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী।
এর ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ এলাকায় কোনো পরিবহনকে কোনো প্রকার হর্ন বাজাতে বা শব্দ সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। ঢাকা শহরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের পাইলট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এটা বাস্তবায়ন করা হবে।’
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে হাইড্রোলিক হর্ন পুরোপুরি বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, শহরে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় শব্দের উৎস সন্ধান করে তা বন্ধ করা হবে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বন ও পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ইটভাটায় যাতে পরিবেশ দূষণকারী পদার্থের নির্গমন বন্ধ হয় তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনকে প্রতিদিন সকাল ও দুপুর দুবার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় উপর থেকে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিআরটিএ এবং মেট্রোরেল প্রকল্পকেও নিজস্ব উদ্যোগে পানি ছিটানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ইট, বালু, মাটিসহ নির্মাণসামগ্রী পরিবহনকারী ট্রাক বা গাড়িগুলোকে অবশ্যই ঢেকে মালামাল পরিবহন করতে হবে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনকে পরিত্যক্ত বর্জ্য না পোড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীসহ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক