ঢাকা সিটির ভোটে প্রচারের মাঠে প্রার্থীরা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন দুই রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে এখন আর কোনো বাধা নেই। এরই মধ্যে মেয়র প্রার্থীরা ভোটের মাঠে প্রচারের কাজে নেমে পড়েছেন।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি) মিলনায়তনে ঢাকা উত্তর সিটির এবং গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এরপরই শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচার।
দক্ষিণের আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে একজন প্রতিনিধি দক্ষিণের রিটার্নিং কার্যালয় থেকে প্রতীক সংগ্রহ করেন। এরপরে তাপস সকাল ১০টায় ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন, মেহেন্দিপুর বাজার, মীরবাগ এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন।
এরপর সকাল সোয়া ১০টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মেয়র প্রার্থী ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল। এ সময় তাঁর সঙ্গে কর্মী-সমর্থকসহ সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জুমার নামাজ শেষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা প্রচারে নামবেন।
আজ শুক্রবার উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উত্তর সিটির আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের পক্ষে প্রতীক নিয়েছেন তাঁর একজন প্রতিনিধি। আতিক আজ উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মনিপুর বয়েজ স্কুলে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
শুক্রবার সকালে উত্তর সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রতীক সংগ্রহ করেন একজন প্রতিনিধি। তাবিথ আজ উত্তরায় ৭ নম্বর সেক্টরে জুমার নামাজ শেষে প্রচার শুরু করবেন।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন প্রতীক নিয়েছেন। তিনি জুরাইন কবরস্থানে বাবার কবর জিয়ারত করবেন। পরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নামাজের পর উত্তর গেট থেকে প্রচারণা শুরু করবেন।
যদিও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আগে থেকেই প্রার্থীরা তাঁদের প্রচার কাজ চালাচ্ছেন। এ নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুলের বিরুদ্ধে বিএনপির তাবিথ আউয়াল আর শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে বিএনপির ইশরাক হোসেন লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া অভিযোগ ছিল, সিটি নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এই নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। তবে এ বিধি লঙ্ঘন করে সংসদ সদস্য সাহারা খাতুনকে নিয়ে নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধনের অভিযোগ ওঠে মেয়র প্রার্থী আতিকুলের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে তাকে ইসি শোকজ করেছিল। জবাবে আতিক বলেছিলেন, ‘প্রচারে নয়, মিলাদে গিয়েছিলাম।’
সর্বশেষ গতকাল এমপিদের প্রচারে অংশ নেওয়া বন্ধ করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ও দুই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
এদিকে গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৩ প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
তবে দুই সিটিতে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদ থেকে ২৬৮ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এতে সংরক্ষিত ওয়ার্ডসহ ১৭২ পদের বিপরীতে ৭৪৫ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে ভোটের চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকলেন ৭৫৮ প্রার্থী।
উত্তরে চূড়ান্ত লড়াইয়ে মেয়র পদে আছেন আওয়ামী লীগের মো. আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আউয়াল, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) শাহীন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক।
দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইশরাক হোসেন, জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুর রহমান, এনপিপির বাহারানে সুলতান বাহার, গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ৯ জানুয়ারি। ১০ জানুয়ারি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি।

নিজস্ব প্রতিবেদক