নওগাঁয় ভুয়া ৫ চিকিৎসক গ্রেপ্তার
নামের পাশে এমবিবিএস, এমডি, বিডিএসসহ নানা সনদের বাহার। কেউ করতেন ভাঙা হাড়ের প্লাস্টার, কেউ মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ, আবার কেউ বা নিজেকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু তাঁদের এসব কোনো সনদই নেই, এগুলো স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সনদের ভিত্তিতে লেখা না বলে দবি র্যাবের। আদালতের মাধ্যমে তাদের আজ মঙ্গলবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নওগাঁর পত্নীতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ধরনের ভুয়া সনদের পরিচয়ধারী পাঁচ চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্প।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার নজিপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যরা ভুয়া সনদধারী ওই পাঁচ চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে পত্নীতলা থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়।
আজ বিকেলে র্যাব-৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ ভুয়া চিকিৎসক হলেন—পত্নীতলা উপজেলার পুঁইয়্যা গ্রামের চপল চৌধুরী (২৬), চকশিবরাম গ্রামের গোলাপ কুমার সরকার (৩২), আমবাটি গ্রামের আবুল কাশেম মিঠু (৩৯), বালুখা পূর্বপাড়ার মোশারফ হোসেন ওরফে রাজু (৩২) এবং শাজিপুর পুরাতন বাজার এলাকার গোলাম সারোয়ার ওরফে সোহান (২৯)।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠানের সনদ কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই উপজেলার নজিপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নামের পাশে এমবিবিএস, এমডি, বিডিএসসহ নানা সনদধারী সাইনবোর্ড টানিয়ে ব্যক্তিগত চেম্বার খুলে এবং ওষুধের দোকানে বসে এসব ভুয়া চিকিৎসক মানুষকে প্রতারিত করে আসছেন। গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে র্যাব ৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোস্তফা জামান ও উপ-অধিনায়ক জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদ রানার নেতৃত্বে একটি দল গতকাল সন্ধ্যায় নজিপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত এমবিবিএস ও বিডিএস সার্টিফিকেট দেখাতে না পারায় ওই পাঁচ ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে তারা।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে আজ দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ