পল্টন হত্যা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ
ময়মনসিংহের নান্দাইলে দোকানি মাজহারুল ইসলাম ওরফে পল্টন হত্যা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবু আবদুল্লাহ ভূঞা সাংবাদিকদের জানান, বিচারক ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে খালাস দিয়েছেন।
পিপি জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন একলাছ উদ্দিন, আবুল কাশেম ফকির ওরফে বাচ্চু, কবির মিয়া, আবুল কাশেম ওরফে আবু, আবুল কালাম আজাদ, চন্দন, শুক্কুর আলী, বাদল মিয়া, ফারুক মিয়া এবং রুমা আক্তার। অন্যদিকে খালাসপ্রাপ্তরা হলেন আফতাব উদ্দিন ওরফে আক্রাম আলী, বদরুল আলম ওরফে বদরুল, ইসমাইল হোসেন, কাজল মিয়া, রফিক, আবু সিদ্দিক ও দুলাল।
গত ৫ ডিসেম্বর এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়।
এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত থেকে ১ মার্চ সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পল্টনকে তাঁর ওষুধের দোকানে মাথা ও কপালে আঘাত করে খুন করা হয়। দোকানের ভেতরে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে গামছা দিয়ে মরদেহ বেঁধে রেখে দোকানে তালা দিয়ে চলে যায় খুনিরা। এ ঘটনায় পল্টনের বোন বিউটি আক্তার ১ মার্চ নান্দাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপরে ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি তদন্ত শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা নান্দাইল থানার ওসি জসিম উদ্দিন। অভিযোগপত্রের পরে জব্বর মোহরী নামের এক আসামি মারা যান। এর পরে তাঁকে সে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বদলি হয়ে আসে। এরপরে সে আদালতে আদালত জব্বর মোহরীকে অব্যাহতি দিয়ে ১৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। হত্যাকাণ্ডের এক যুগ পরে আলোচিত এ মামলাটির বিচার আজ শেষ হলো।

আদালত প্রতিবেদক