বায়ু দূষণ রোধে হাইকোর্টের ৯ দফা সুপারিশ
রাজধানীর বায়ু দূষণ রোধে ৯ দফা সুপারিশ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঢাকায় বায়ু দূষণ রোধ করা যাচ্ছে না কেন এবং বায়ু দূষণরোধে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা জানাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলব করা হয়েছে।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আজ সোমবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
নয় দফা নির্দেশনা হচ্ছে –
১. ঢাকা শহরের মধ্যে যেসব ট্রাক বা অন্যান্য যানবাহনে বালি বা মাটি পরিবহন করা হয়, সেগুলো কাভার্ড (ঢাকনা) যুক্ত করতে হবে।
২. যেসব জায়গায় নির্মাণকাজ চলে সেসব জায়গায় ঢাকনা দিয়ে নির্মাণ কাজ পরিচালনা করতে হবে।
৩. এ ছাড়া ঢাকার সড়কগুলোতে পানি ছিটানোর যে নির্দেশ ছিল, সে নির্দেশ অনুযায়ী যেসব জায়গায় এখনো পানি ছিটানো হচ্ছে না, সেসব এলাকায় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. সড়কের মেগা প্রজেক্টের নির্মাণ কাজ এবং কার্পেটিং যেসব কাজ চলছে, যেসব কাজ যেন আইন কানুন এবং চুক্তির টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন মেনে করা হয় সেটা নিশ্চিত করার নির্দেশ।
৫. গাড়ির কালো ধোঁয়া ছাড়ে সেগুলো জব্দ করতে বলা হয়েছে।
৬. সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ির ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ করতে হবে এবং যেসব গাড়ি পুরাতন হয়ে গেছে সেগুলো চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ।
৭. যেসব ইটভাটা লাইসেন্সবিহীনভাবে চলছে, সেগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনও বন্ধ করা হয়নি, সেগুলো বন্ধ করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ।
৮.পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া টায়ার পোড়ানো এবং ব্যাটারি রিসাইকিলিং বন্ধের নির্দেশ।
৯. মার্কেট এবং দোকানের বর্জ্য প্যাকেট করে রাখতে এবং তা মার্কেট ও দোকান বন্ধের পরে সিটি করপোরেশনকে ওই বর্জ্য অপসারণ করার নির্দেশ।
এই ৯দফা নির্দেশনার পাশাপাশি ২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে এবং ১ মার্চের মধ্যে সব বিবাদীকে ওই ৯ দফা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ছিলেন সাইদ আহমেদ রাজা।
আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্মল বায়ু ও পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এই টাকা পরিবেশ অধিদপ্তর কীভাবে ব্যয় করেছেন, পরিবেশ উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রেখেছে, এতে জনগণ কী ধরনের সুফল পাচ্ছে অর্থাৎ পুরো প্রকল্পের টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হয়েছে।
হাইকোর্টের দেওয়া ৯ দফা নির্দেশনায় সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবহনের ‘ইকোনমিক লাইফ’ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। যেসব পরিবহনের ‘ইকোনমিক লাইফ’-এর মেয়াদ শেষ হয়েছে সেসব পরিবহন চলাচলে নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া চলমান টায়ার পোড়ানো ও ব্যাটারি রিসাইকেলিং বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়ন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ঢাকার পাশের চার জেলায় (গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ) যেসব অবৈধ ইটভাটা এখনও বন্ধ করা হয়নি তা বন্ধ করে দুইমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকায় বালি, ময়লা, বর্জ্য বহনের সময় বহনকারী ট্রাকসহ সংশ্লিষ্ট যান ঢেকে চলাচল করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দোকান বা মার্কেটের ময়লা যাতে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয় তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ এলাকায় বালি, সিমেন্ট, মাটিসহ নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন ও দরপত্রের শর্তানুযায়ী উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের যেসব ধুলাবালি প্রবণ এলাকায় এখখনো পানি ছিটানো হয়নি সেসব এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটাতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক