মুন্সীগঞ্জে ৭ জন করোনায় আক্রান্ত
মুন্সীগঞ্জ সদর, গজারিয়া, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও টঙ্গীবাড়িতে মোট সাতজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মধ্য রাতে জরুরি ফোনে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জনকে বিষয়টি জানানো হয়। রাতেই সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে সদর ও সিরাজদিখানের দুই নারী রয়েছেন। বাকি পাঁচ পুরুষের মধ্যে গজারিয়ায় দুইজন, টঙ্গীবাড়িতে দুইজন, অপরজন শ্রীনগরের। গত বুধবার জেলা থেকে ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বৃহস্পতিবার তা ঢাকায় পাঠানো হয়। এর মধ্য থেকেই সাতজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে আইইডিসিআর। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আরেকজন উপজেলাটির একটি গ্রামের বাসিন্দা। ওই সেকমোকে শুক্রবার রাতেই ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে একই অ্যাম্বুলেন্সে অপর রোগীকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়। সেকমোর সহকর্মীদের হোমকোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ রেজাউল ইসলাম জানান, গত বুধবার উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়নের ফৈনপুর গ্রামের মো. মহিউদ্দিন নামে ৬০ বছরের একজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষায় তাঁর করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। নমুনা সংগ্রহের পর থেকে মো. মহিউদ্দিনকে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে তাঁর বাড়ি লকডাউন করার কথা জানান ডা. রেজাউল।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমন বণিক বলেন, পজেটিভ দুজনের নমুনা মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। যদিও একজনের বাড়ি টঙ্গীবাড়ি উপজেলায়। তিনি মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। এ দুজনের সঙ্গেই কথা হয়েছে। তাঁরা বাড়িতেই আছেন। সকালে গিয়ে বাড়ি লকডাউন ছাড়াও তাঁদের আইসোলেশনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্তদের বেশিরভাগই নারায়ণগঞ্জের যোগসূত্রে সংক্রমিত এবং টঙ্গীবাড়ীর একটি কেস ঢাকার মিরপুরের। পজেটিভ পাওয়া সবার সঙ্গেই আইইডিসিআর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। সাতজনের কারো শারীরিক অবস্থা গুরুতর নয়।

মঈনউদ্দিন সুমন, মুন্সীগঞ্জ