রাজাকারের নয়, দালালদের তালিকা দিয়েছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে রাজাকার, আলবদর, আলশামসের সঙ্গে যুক্ত ছিল এমন কোনো ব্যক্তির তালিকা পাঠানো হয়নি। রাজাকার-আলবদর-আলশামস বা মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো বিষয় নিয়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে না। এটা সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজ।’
আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রাজাকারদের তালিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে একটি তালিকা চেয়েছিল। আমরা ১৯৭২-১৯৭৪ সালে দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় যাদের নাম ছিল, সেই তালিকা দিয়ে দিয়েছি। মূল কথা, আমাদের কাছে যা ছিল আমরা তাই দিয়ে দিয়েছি। তাতে কোনো রাজাকার, আলবদর, আলশামস সদস্যদের নাম ছিল না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১৫ ডিসেম্বর রাজাকারের তালিকা নামে যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেটি আসলে রাজাকারের তালিকা নয়। এটি আলবদর, আলশামসের তালিকাও নয়। দালাল আইনে অভিযুক্তদের তালিকা এটি। নোট দেওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সবার নাম প্রকাশ করায় এর পুরো দায় ওই মন্ত্রণালয়ের। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা ৯৯৬ জনের নাম নোট করে পাঠিয়ে দিয়েছি। যদিও তাঁরা ওই দালাল আইনে দায়ের হওয়া মামলার বাদী-বিবাদী নয়।’
গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলেন ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মুজাম্মেল হক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘যারা রাজাকার হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়ে পাকিস্তানি আর্মির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁদের তালিকা এটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই তালিকা সংরক্ষিত ছিল, সেখান থেকে আমরা সংগ্রহ করেছি। আজ থেকে এটি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।’ এ তালিকার রাজাকাররা কে কোন দলে আছেন, এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
এই তালিকা ওই দিনই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর ও প্রবীণ আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপুসহ কয়েকজন খ্যাতনামা মুক্তিযোদ্ধার নামও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এতে এ তালিকা নিয়ে দেশব্যাপী হইচই শুরু হয়।
গতকাল ১৭ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় এ তালিকার বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা প্রদান করে। মুক্তিযুদ্ধাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘তালিকায় অন্তর্ভুক্ত যদি কেউ মনে করেন তিনি রাজাকার, আলবদর বা আল সামসের সদস্য ছিলেন না কিংবা তিনি বা তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের তাহলে তিনি আবেদন করলে তা যাচাই-বাচাই করে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক