হলি আর্টিজান মামলার রায়, এজলাসে জাপানি পর্যবেক্ষক
গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলার রায় আজ। আদালতে রায় পর্যবেক্ষণ করতে এসেছেন জাপানি পর্যবেক্ষক তোহারাস তাকেদা ও শো কোমানি।
আজ বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে বেলা পৌনে ১১টায় আসেন জাপানের দুজন প্রতিনিধি। একজন হলেন জাপানি সংবাদ সংস্থা জি জি প্রেসের গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষক তোহারাস তোকেদা এবং জাপানি পত্রিকা ইয়মোয়রি সিমবুনের প্রতিবেদক শো কোমানি।
তাঁরা দুজনই হলি আর্টিজানের মামলার রায় পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছেন।
তোহারাস তাকেদা এনটিভি অনলাইনকে জানান, তিনি জি জি প্রেসের দিল্লি প্রতিনিধি। দিল্লি থেকে গতকাল ঢাকায় এসেছেন।
অন্যদিকে শো কোমানি এনটিভি অনলাইকে বলেন, তিনি মামলায় রায় পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঢাকায় এসেছেন।
এদিকে আজ দুপুর ১২টায় মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের পিপি গোলাম সরোয়ার খান জাকির।
রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আট আসামিকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হবে। রায় উপলক্ষে পুরো আদালত এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে। এ ছাড়া এজলাসে সাধারণ আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
আদালত চত্বরে আজ সকাল সাড়ে ৯টার সময় দেখা যায়, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পুলিশ, র্যাব আর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে ভরে উঠেছে আদালত চত্বর। আদালতের ভেতরে প্রবেশ করছেন এমন সব মানুষকে তল্লাশি করে ঢোকানো হচ্ছে। বাদ যাচ্ছেন না দায়রা জজ আদালতের আইনজীবীরাও।
আদালতের মূল প্রবেশদ্বার ও পেছনের জজকোর্ট মসজিদ গেট দিয়ে কাউকেই মোটরসাইকেল নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে। সেদিনই উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির মুখপত্র ‘আমাক’ হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’। এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় আজ রায় ঘোষণা করা হবে।
আট আসামি হলো জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর মামলাটির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। পরে হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস।
এ মামলায় অভিযোগপত্রে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন আসামি বিভিন্ন অভিযানে ও পাঁচজন হলি আর্টিজানে অভিযানের সময় নিহত হয়েছে। অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গি হলো রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
এ ছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত আটজন হলো তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

আদালত প্রতিবেদক