১০.১ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফরিদপুরের জনজীবন স্থবির
কয়েকদিন ধরে ফরিদপুরে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। শীতের কারণে সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ। ভোরের দিকে শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশায় মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে কম।
এদিকে সারা দেশের মধ্যে আজ শনিবার ফরিদপুরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রের্কড করা হয়েছে ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। এ ছাড়া মাদারীপুরে ১০ দশমিক ৪, গোপালগঞ্জে ১০ দশমিক ৫ এবং কুমিল্লায় ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বলে জানানো হয়।
এদিকে ফরিদপুরের আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক সুরজুল আমিন জানান, গত কয়েক দিনে তাপমাত্রায় শনিবার সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে এ জেলায়।
এদিকে, জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা, মধুমতি ও আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের মানুষগুলো শীতের দাপটে হিমশিম খাচ্ছে। গত কয়েক দিনে ফরিদপুর অঞ্চলে শীতের সঙ্গে দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড ঘন কুয়াশা। সন্ধ্যার পরই শিশির পড়তে থাকে সর্বত্র। কুয়াশার কারণে জনজীবনে স্থবির হয়ে পড়েছে। সূর্য দেখা মিলছে দুপুরের পরে। তবে আজ শনিবারও সারা দিনে সূর্যের দেখা মেলেনি।
এ ছাড়া শীতজনিত রোগ নিয়ে ফরিদপুরের হাসপাতালগুলোতে এখন ভিড় জমছে শিশুসহ বয়স্ক রোগীদের।
ফরিদপুর শহরে কাজের সন্ধানে আসা দিনমজুর হাবিব, আওয়াল শেখ ও ছরোয়ার হোসেন জানালেন, শীতের কারণে কয়েকদিন হলো কাজ নেই। এক রকম বসেই দিন পার করছি। এভাবে আরো কয়েক দিন চললে চরম কষ্ট নেমে আসবে।
ফরিদপুর জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম জানান, জেলার ৮১টি ইউনিয়ন ও ছয়টি পৌরসভায় ৪৬০টি করে সরকারি অনুদান শীতবস্ত্র কম্বল এসেছে। আমরা সেগুলো নয়টি উপজেলায় বিতরণ শুরু করেছি। এ ছাড়া জরুরি বরাদ্দ হিসেবে আরো নয় হাজার ১০০ কম্বল পেয়েছি।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ‘জেলার চরাঞ্চলগুলোতে অগ্রাধিকার হিসেবে আগে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি। আমাদের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র রয়েছে, শীতের কারণে কেউ কষ্টে থাকবে না।’

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর