‘৬০ লাখ’ টাকার ভারতীয় কাপড় জব্দ, ১০ দিনেও মামলা হয়নি
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার রসালপাড়া মহল্লায় একটি বাড়ি থেকে বিপুল ভারতীয় কাপড় উদ্ধারের ১০ দিন পরও মামলা করেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ডিসেম্বর ক্ষেতলালের রসালপাড়া মহল্লার তুহিন ইসলামের বাড়ির একটি কক্ষের তালা ভেঙে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল ভারতীয় শার্ট-প্যান্ট ও থ্রি পিসসহ বিভিন্ন মূল্যবান কাপড় উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা। ওই অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন জয়পুরহাট ২০ বিজিবির সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান। মোস্তাফিজুর রহমান সম্প্রতি বদলি হয়েছেন।
কাপড় উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে সিজারলিস্ট না হলেও ভারতীয় কাপড়গুলো জয়পুরহাটের পারুলিয়াস্থ ২০ বিজিবির ব্যাটালিয়ান সদরে নেওয়ার পরের দিন (১১ডিসেম্বর) সেগুলো পাশের দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি শুল্ক গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মামলা না করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এদিকে থানায় কোনো মামলা বা জিডি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার ১০ দিন পরও মামলা না হওয়ার বিষয়টি জানার জন্য প্রতিবেদকসহ জেলার কয়েকজন সংবাদকর্মী ২০ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর রবিউল হাসানের সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টায় দেখা করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাত্র যোগদান করেছি। মামলা না হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষেতলাল পৌর সদরের রসালপাড়া মহল্লার তুহিন ইসলাম এলাকার একজন চিহ্নিত চোরাকারবারি। ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে ট্রাকে করে অবৈধভাবে ভারতীয় কাপড় (শার্ট-প্যান্ট, স্যুট পিস, থ্রি-পিস ও শাড়ি) এনে তাঁর বাড়িতে রাখেন। পরে ট্রাকে করে সেখান থেকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছিল তাঁর এই চোরাকারবারির ব্যবসা। এ অবস্থায় গত ৬ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পূর্ব পাশে রাখা পরিত্যক্ত একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৫৫২৭) থেকে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার ভারতীয় কাপড় উদ্ধার করে জয়পুরহাট সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) খালেক বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি মামলা করেন। আর ট্রাকসহ কাপড়গুলো থানায় জব্দ করা হয়।
একইভাবে গত ২১ সেপ্টেম্বর পাঁচবিবি উপজেলার সালাইপুর বাজারে ভারতীয় কাপড় বোঝায় তুহিনের আরো একটি ট্রাক আটক করে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ট্রাকসহ যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় ট্রাকচালক ক্ষেতলালের রসালপাড়া মহল্লার আঙ্গুর হোসেন ও সহকারী নিশ্চিন্তা গ্রামের আবু মুসা। গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই পাঁচবিবি থানায় মামলা করে চালক ও সহকারীকে জেলা কারাগারে পাঠান। কাপড় ও ট্রাকের মালিক ক্ষেতলালের রসালপাড়া মহল্লার তুহিন ইসলামের বলে ট্রাকচালক স্বীকার করেছে বলে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে। মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া ভারতীয় কাপড় বোঝাই আরো একটি ট্রাক গত ২৯ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুর থানা পুলিশ আটক করে। ওই ঘটনায় পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনে তুহিনসহ তিনজনকে আসামি করে মধুপুর থানায় মামলা করেছেন। ট্রাকটি এখনো মধুপুর থানায় আটক আছে।
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেন জানান, জয়পুরহাট থানায় ভারতীয় কাপড়বোঝাই আটক করা ট্রাকটি থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তুহিনের বাবা তোজাম্মেল হোসেন আদালতের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন।
ক্ষেতলাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বকর সিদ্দিক জানান, গত ১০ ডিসেম্বর জেলার ক্ষেতলাল সদরের রসালপাড়া থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় কাপড়ের বিষয়ে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা হয়নি।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট