যুবদলকর্মী জীবন হত্যা মামলায় আসামি আ. লীগ নেতাকর্মী
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সময় যুবদলকর্মী জীবন শেখ নিহত হওয়ার ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিহতের বড় বোন মোসা. শম্পা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান (৪৫), বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান কালুর ছেলে আশিকুর রহমান তুহিন (১৮) ও রেদওয়ানুল রহমান তুষার (২৪), মিয়াপাড়া এলাকার সূর্য মিয়ার ছেলে পাপ্পু (৪৩) এবং হোসেনীগঞ্জ এলাকার কালামের ছেলে রনিসহ (২৭) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান। তিনি জানান, এই মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর রানীবাজার এলাকায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবদলকর্মী জীবন শেখ (২৫) নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরো পাঁচজন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর রানীবাজার এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগকর্মী তুষারের অবস্থা গুরুতর। নিহত জীবন যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী এবং নগরীর রাজারহাতা এলাকার হোসেন শেখের ছেলে।
নিহতের বাবা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মচারী হোসেন শেখ বলেন, ‘আমার ছেলে যুবদলের কর্মী হলেও সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রবিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। তারা একসঙ্গে চলাফেরা করত। রবিনই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফোন করে জীবনকে ডেকে নিয়ে যায়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা জানান, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুল আরেফিন রবিনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক ছিল বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আতিকুর রহমান কালুর ছেলে ও মহানগর ছাত্রলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য আশিকুর রহমান তুহিনের। বৃহস্পতিবার বিকেলে তুহিনের ফেসবুক পেজে রবিনকে ‘ইডিয়ট’ ও ‘রাসকল’ বলে গালি দেওয়া হয়। তুহিন সঙ্গে সঙ্গে জানান, তাঁর ফেসবুক পেজ হ্যাক করে রবিনকে উদ্দেশ করে কে যেন বাজে মন্তব্য করেছে। তুহিন তাঁর ফেসবুকের আইডি পরিবর্তন করে এবং রবিনকে নিয়ে করা মন্তব্য ডিলিট করে দেন। তবে বিষয়টি রবিন ভালোভাবে নেননি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রবিন মোবাইলে ফোন করে সিটি কলেজের সামনে তুহিনকে আসতে বলেন। তুহিন সেখানে যাওয়ার পরপরই রবিন তাঁকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় আতিকুর রহমান কালু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
রবিনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিটি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রবিন সমর্থকদের নিয়ে রানীবাজার মোড়ে তুহিনের বাবা আতিকুর রহমান কালুর কার্যালয় ভাঙচুর করেন। এ সময় সেখানে রাখা তুহিনের বড় ভাই ছাত্রলীগকর্মী তুষারের মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে আতিকুর রহমান কালুর লোকজন সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘বাবা আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান কালুর চেম্বারে হামলার খবরে রাত ১১টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা তুহিন তাঁর সমর্থকদের নিয়ে গিয়ে মালোপাড়া মোড়ে রবিন ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে জীবন রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
সহকারী কমিশনার আরো বলেন, ‘জীবন বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন নাশকতার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি যুবদলের কর্মী হলেও ছাত্রলীগ নেতা রবিনের বন্ধু ছিলেন। রবিনের ডাকে তিনি ওই সংঘর্ষে অংশ নিয়েছিলেন।’

শ. ম সাজু, রাজশাহী