একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা চলছে : নাহিদ ইসলাম
২০০৮ সালের মতো আবারও একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে নরসিংদীর ঘোড়াশাল পোস্ট অফিস মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এই অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের প্রয়োজন ছিল আমূল সংস্কার। আমরা ৩ আগস্ট জাতীয় শহীদ মিনারে ঘোষণা দিয়েছিলাম- গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লব শুধু হাসিনা খেদানোর বিপ্লব নয়, বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনার তৈরি করা সিস্টেম পরিবর্তনের বিপ্লব। গণঅভ্যুত্থানের আগে তারা সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দিয়েছিল, কিন্তু এখন তারা নিজেরাই নিজেদের কথা রাখছে না। তারা নির্বাচিত হলে এসব কথাও রাখবে না। ফ্যাসিস্ট হাসিনাও বলেছিল ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর সুযোগ হয়নি। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার। আমরা নির্বাচিত হলে এসব খাতে সংস্কার করব।
সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, যে দলের কাছে নিজের দলের নেতাকর্মীরাই নিরাপদ নয়, সেই দলের কাছে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে? যারা অভিজ্ঞতার কথা বলছেন- গত ১৬ বছরের অভিজ্ঞতার ব্যর্থতার কারণেই আমরা ফ্যাসিস্ট শাসনের অধীনে শোষিত হয়েছি। আপনারা এখন অবসরে যান, আমাদের দেশ গঠনের সুযোগ দিন। আমরা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বলব- ব্যক্তিস্বার্থ বাদ দিয়ে এগারো দলের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। বাংলাদেশ থেকে আধিপত্যবাদ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই। বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদমুক্ত করতে আমাদের কাজ করতে হবে।
এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমরা জানি নরসিংদী ও পলাশে নগরায়ণ হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে। এই অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ১১ দলীয় ঐক্যজোট নির্বাচিত হলে পরিবেশ রক্ষা করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে যে জুলুম-নির্যাতন করেছে, একটি দল গত ১৭ মাসে সেই পরিমাণ নির্যাতন করেছে। যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পলাশের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রায় দেবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, একটি দলের চেয়ারম্যান একটি কার্ডের কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই পকেটে হাত দিয়ে কার্ড খুঁজে পান না। কোনটা ফ্যামিলি কার্ড, কোনটা কৃষক কার্ড- তিনি নিজেই তা চিনতে পারেন না। বাংলাদেশ সরকার একটি কার্ডের মধ্যেই সকল নাগরিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা বাংলাদেশকে চাঁদাবাজ ও দখলবাজমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
আসিফ বলেন, সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আগে গণভোট হতো ক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বার্থের জন্য। কিন্তু এবারের গণভোট হবে ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার গণভোট। যদি চাঁদাবাজমুক্ত, দখলমুক্ত ও ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চান, তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। একটি দলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে নারীদের নির্যাতনের ঘোষণা দিচ্ছে। যদি মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান, তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নরসিংদী–২ আসনে এগারো দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার তুষার বলেন, নরসিংদীর পলাশে আর কোনো পিএস পলিটিক্স চলবে না। আগামী ১২ তারিখে লড়াই হবে জুলুমের বিরুদ্ধে ইনসাফের। আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন, এগারো দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার সেক্রেটারি নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন।
সরোয়ার তুষার বলেন, পলাশের বিভিন্ন এলাকায় একটি দল আগের তুলনায় চাঁদাবাজি বাড়িয়ে দিয়েছে। টোল প্লাজায় চাঁদাবাজি করা হচ্ছে, পলাশ–ঘোড়াশালের শিল্প এলাকায় একটি বড় দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি শুরু করেছে। এগারো দলীয় ঐক্যজোট বিজয়ী হলে ইনশাআল্লাহ পলাশ ও ঘোড়াশালকে চাঁদাবাজিমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পলাশ ও ঘোড়াশালে ভোট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে নরসিংদীতে আবারও জুলাই নেমে আসবে।
সরোয়ার তুষার আরও বলেন, পলাশের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠ দখলের চেষ্টা চলছে। আমি নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে ঈদগাহ মাঠকে দখলমুক্ত করা। আপনারা চাকরি চাইলে চাকরি দেওয়া হবে। আর যদি চাঁদাবাজি বন্ধ না করা হয়, তাহলে ১২ তারিখের পর চাঁদাবাজদের স্থান হবে গারদে। শাপলা কলি বিজয়ী হলে পলাশ ও ঘোড়াশালের মানুষ শান্তিতে থাকবে। যারা নিজেদের দলের লোককে হত্যা করে, তারা কীভাবে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখবে? কোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও লাশের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির বিচার হয়নি। আমরা শহীদ হাদির বিচার চাই। শহীদ হাদির ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই।
নির্বাচনি সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলামসহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা।

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী