খালেদা জিয়ার অনাস্থা আবেদনের শুনানি ফের রোববার
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে হাইকোর্টে করা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর আগামী রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আবারও শুনানি হবে।
আজ বুধবার বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও আমিনুল ইসলাম শুনানিতে অংশ নেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এ আবেদন করেন।
গত সপ্তাহে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তন করায় আবেদনটি শুনানির জন্য নতুন করে এ বেঞ্চে আবেদন করেন। আজ দুপুর ২টার পর শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় বিকেল ৪টার দিকে।
আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে আরো অনেক মামলা বিচারাধীন। সেসব মামলায় এক-দেড় মাস পরপর দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে কোনো কোনো সপ্তাহে দুদিন ধার্য করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মতোও তিনি ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্যই তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। এই আদালতে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না।
আবেদনে আরো বলা হয়, এই মামলার দুবার তদন্ত হয়েছে। প্রথম দফায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা নূর আহমেদ মামলার অভিযোগ থেকে খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি দেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার জন্য কুয়েতের আমির অর্থ দেন। কিন্তু দুদক এই মামলায় নতুন কর্মকর্তা হিসেবে হারুনুর রশিদকে নিয়োগ দেন। এই তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে বলেছেন, টাকা এসেছে সৌদি আরব থেকে। এখানে খালেদা জিয়া জড়িত। এ অবস্থায় খালেদা জিয়া পুনরায় তদন্ত চেয়ে আবেদন করলে সেই আবেদনও খারিজ করে দেন আদালত।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘এমতাবস্থায় ওই আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব না। তাই অনাস্থা জানিয়ে আবেদনে করেছি।’
ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় আরো একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক