স্বস্তির বৃষ্টিতে পথে পথে দুর্ভোগ
ঘড়িতে সময় তখন বেলা ১১টা। বৃষ্টির প্রকোপ তখন কিছুটা কমেছে। এই ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে কাজীপাড়া থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত শত শত মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু গণপরিবহনের দেখা নেই। সিএনজি অটোরিকশা ‘সোনার হরিণ’। রিকশা পাওয়া গেলেও ভাড়া আকাশচুম্বী।
গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমের পর আজকের বৃষ্টি নগরবাসীর জন্য এনে দিয়েছে স্বস্তি। কিন্তু কার্যদিবস হওয়ায় অফিসগামী মানুষকে বাড়ি থেকে বের হতেই হয়েছে। ফলে রাস্তায় নেমেই বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের।
মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে রাস্তার দুই ধারে আর গলিতে জমে থাকা পানি নগরবাসীর দুর্ভোগের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।
কেবল বেগম রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া বা শেওড়াপাড়া নয়, সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাজধানীর অনেক এলাকার রাস্তাঘাট। বিভিন্ন গলিপথে জমে গেছে পানি। রাস্তায় পানির কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভীষণ ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী।
তবে এ ক্ষেত্রে একটু স্বস্তির পরশ দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। তারা জানাচ্ছে, আপাতত দু-তিনদিন রাজধানীতে এই রকম তুমুল বৃষ্টি হওয়ার আর সম্ভাবনা নেই। তবে আজ ঢাকায় দিনের যে কোনো সময় আবারও সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা সকালের মতো প্রবল আকারে ঝরবে না।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সানাউল হক এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সারা দেশে যে মৌসুমি বায়ু বিস্তার লাভ করেছে, তার সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপ মিশে এই বৃষ্টি হয়েছে। এতে কালবৈশাখীরও কিছুটা প্রভাব ছিল। এই পরিমাণ বৃষ্টিকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বলা যায়।’
এদিকে, কোন কোন এলাকায় পানি জমে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা জানতে চাইলে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, রাজধানীর কোনো সড়কে পানি জমে নেই। তবে শান্তিনগর এলাকায় কিছু পানি জমেছিল, সেসব স্থান দুপুরে পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পুরান ঢাকার বংশাল, সাতরওজা, নাজিমউদ্দিন রোড, বসুন্ধরা সিটির শপিং কমপ্লেক্সের পেছনের অংশ, ইন্দিরা রোড, পশ্চিম রাজাবাজার, মিরপুর, শান্তিনগর, মগবাজার, কারওয়ান বাজার, মিরপুর ১৩, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন সড়কে পানি জমে ছিল। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন অলিগলিও ছিল পানির নিচে। তা ছাড়া নাখালপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় কাদা জমে যাওয়াসহ পরিবহনের তীব্র সংকট ছিল।

অনলাইন ডেস্ক