বিশেষ ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ, সংসদে বিল পাস
বিশেষ প্রেক্ষাপটে ১৮ বছরের আগে মেয়ে এবং ২১ বছরের আগে ছেলেরা বিয়ে করতে পারবে। আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদে এ বিধান রেখে বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল-২০১৭ সংসদে পাস হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। তবে বিলটি পাশের আগে জনমত যাচাই এবং বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম, সেলিম উদ্দিন ও রওশন আরা মান্নান। কিন্তু তাঁদের প্রস্তাবগুলো গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান, প্রতিমন্ত্রী।
পরে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলটি কণ্ঠভোটে দিলে তা পাস হয়। সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশেষ বিধানের এই সুযোগ যে কেউ চাইলেই পাবে না।
এদিকে বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, বিলে বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং এর কার্যাবলী নির্ধারণের বিধান করা হয়েছে। বিধিমালায় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠনের বিধান করা হয়েছে।
বিলে বাল্যবিবাহ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির সাধারণ ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী হাকিম, উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি কোনো ব্যক্তির লিখিত বা মৌখিক আবেদন অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে বাল্যবিবাহের সংবাদ পেলে তিনি বিয়ে বন্ধ করবেন। অথবা বিধিমালার দ্বারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
বিলে স্বউদ্যোগে বা কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে আদালত কোনো বাল্যবিবাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান করা হয়েছে।
বিলে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগজনিত অপরাধে অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান করা হয়েছে।
বিলে বাল্যবিবাহ করলে প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ, যিনি দায়ী হবেন তাঁকে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান করা হয়েছে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষের ক্ষেত্রে অনধিক ১৫ দিনের আটকাদেশ বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তিযোগ্য করার বিধান করা হয়েছে।
বিলে বাল্যবিবাহ সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতাসহ অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের জন্য অনধিক দুই বছর ও অন্যুন ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান করা হয়েছে।
বিলে বাল্যবিবাহ সম্পাদন বা পরিচালনাকারীর ক্ষেত্রে অনধিক দুই বছর ও অন্যুন ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান করা হয়েছে।
বিলে বাল্যবিবাহ নিবন্ধকের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, তাঁকে অনধিক দুই বছর ও অন্যুন ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে।
এ বিলের অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতা-মাতার সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে বিবাহ সম্পাদিত হলে তা এ আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না বলে বিলে বিশেষ বিধান করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিলে বাল্যবিবাহ বন্ধে উদ্যোগী হতে শর্তে বাল্য বিয়ের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি, বয়সের প্রমাণের দলিল, ক্ষতিপূরণ প্রদান, অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিন যোগ্যতা এবং অ-আপোষ যোগ্যতা, বিচার পদ্ধতি, সরেজমিনে তদন্ত, মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯-এর প্রয়োগ, অপরাধ গ্রহণ ও আমলের সময়সীমাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক